ওয়ান নিউজ ডেস্ক :
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত চাঞ্চল্যকর মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হচ্ছে। মামলার দুই প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ইতিমধ্যে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়েছে। আজ রোববার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে একটি প্রিজনভ্যানে করে তাদের কারাগার থেকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসা হয়। বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আজ এই বহুল আলোচিত মামলার রায় হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে, মাত্র চার কার্যদিবসের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে আদালত। গত ৪ জুন উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর আদালত রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেছিলেন।
আজকের এই স্পর্শকাতর রায়কে কেন্দ্র করে আদালত চত্বর ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করছেন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসারে, গত ১ জুন আসামি সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। পরদিন ২ জুন মামলার ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেন আদালত। ৩ জুন আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য দেন। এরপর ৪ জুন যুক্তিতর্ক শেষে আজ রায়ের দিন ঠিক করা হয়।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা আক্তার স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে ফুসলিয়ে নিজেদের ঘরে নিয়ে যান। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার মা তাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে আসামির ঘরের দরজার সামনে রামিসার জুতো দেখতে পান তিনি। সন্দেহ হওয়ায় ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও প্রতিবেশীরা মিলে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার দেহ এবং একটি বড় বালতির ভেতর তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। এই নৃশংস ঘটনার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ কল দেওয়া হলে পল্লবী থানা পুলিশ দ্রুত এসে স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুরো দেশবাসীকে স্তব্ধ করে দেওয়া এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের দিকেই এখন সবার নজর।

