যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি যেকোনো সময়ের চেয়ে কাছাকাছি, ডিজিটাল স্বাক্ষরের ইঙ্গিত ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি যেকোনো সময়ের চেয়ে কাছাকাছি, ডিজিটাল স্বাক্ষরের ইঙ্গিত ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

ওয়ান নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব রাজনীতির সব আলো এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের দিকে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা এর আগে কখনো এতটা কাছাকাছি আসেনি। সমঝোতা স্মারক (MoU) চূড়ান্ত হওয়ার পর দুই দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশ থেকেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে এতে স্বাক্ষর করবেন এবং পরবর্তীতে তা আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববাসীর সামনে ঘোষণা করা হবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক মন্তব্য করেন। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে আব্বাস আরাগচি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে লেখেন, ‘সমঝোতা স্মারকটি (স্বাক্ষরের) এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।’ তবে সম্ভাব্য এই চুক্তির ভেতরের গোপন বিষয়বস্তু ও শর্তাবলী নিয়ে গণমাধ্যমের অতিরিক্ত জল্পনা-কল্পনার বিষয়ে তীব্র সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন তিনি। আরাগচি বলেন, ‘চুক্তিটি সম্পূর্ণ চূড়ান্ত রূপ পাওয়ার আগ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর উচিত এর বিষয়বস্তু নিয়ে যেকোনো ধরনের অনুমাননির্ভর প্রতিবেদন প্রকাশ বা মুখরোচক জল্পনা করা থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকা।’

উলেখ্য, ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই আশাব্যঞ্জক পোস্টের ঠিক কিছু সময় আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের তীব্র সমালোচনা করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন। ট্রাম্পের সরাসরি অভিযোগ ছিল, ইরান এই স্পর্শকাতর চুক্তির বেশ কিছু অত্যন্ত গোপন কারিগরি শর্তাবলী দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যমে ফাঁস করে দিয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক বিশ্বাসের পরিপন্থী। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন অসন্তুষ্টি ও কড়া বার্তার পরপরই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির এই ভারসাম্যপূর্ণ ও সতর্কতামূলক বক্তব্য সামনে এলো। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের অভিযোগ এবং আরাগচির এই তাৎক্ষণিক বিবৃতির পর দুই দেশের সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে নতুন করে বড় আশার সঞ্চার হলেও এটি স্পষ্ট যে, চূড়ান্ত স্বাক্ষরের আগে ওয়াশিংটন ও তেহরান—উভয় পক্ষই এখন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *