ওয়ান নিউজ ডেস্ক: কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণার যে দাম্ভিক দাবি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করেছেন, তাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে এর ওপর নিজেদের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণের কথা দৃঢ়ভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরান। সম্প্রতি নিউইয়র্কে পুলিশ একাডেমির এক সমাবেশে ট্রাম্প পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ ইরানকে পরাজিত করে এই বিশ্বখ্যাত সামুদ্রিক পথটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার ঘোষণা দেন এবং ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন নৌ-অবরোধকে অভেদ্য ‘ইস্পাতের প্রাচীর’ বলে আখ্যায়িত করেন; যদিও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে ট্রাম্পের কথাটি মূলত রসিকতা ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের কড়া জবাবে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি এক্সে (টুইটার) স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালি সবসময় ইরানের ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে, যা কেবল তেহরানের নির্দেশেই খোলা বা বন্ধ হবে; তাই টুইট বা বিমানবাহী রণতরী দিয়ে এটি দখলের অবাস্তব চিন্তা বাদ দিয়ে ওয়াশিংটনের উচিত নিজেদের কৌশলগত পরাজয় মেনে নেওয়া। একই সুরে ইরানের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড ‘খাতাম-আল আনবিয়া’-এর মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাদের সশস্ত্র বাহিনীর অনুমতি ছাড়া কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ বা তেল ট্যাঙ্কার ওই প্রণালি নিরাপদে অতিক্রম করতে পারবে না; অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মার্কিন এই দাবিকে গোয়েন্দা ব্যর্থতাজনিত মারাত্মক ভুল হিসাব বলে আখ্যা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা চালিয়ে দেশটির দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ৮৬ বছর বয়সি আলী খামেনিসহ শীর্ষ নেতাদের হত্যা করার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধের সূচনা হয় এবং ইরান পাল্টা হামলা চালায়, তারই প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে এই তীব্র উত্তেজনা ও বাগযুদ্ধ চলছে।

