ওয়ান নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে আয়োজিত বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেলেও ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) সভাপতি জিবরিল রাজৌবকে ভিসা দেয়নি যৌথ আয়োজক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। ওয়াশিংটন ও অটোয়ার এই বিতর্কিত আচরণকে ‘হাস্যকর ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি ফুটবল প্রধান। তবে উত্তর আমেরিকার এই দুই ক্ষমতাধর দেশের ভিসা না পেলেও বিশ্বকাপের আরেক সহ-আয়োজক দেশ মেক্সিকোয় পৌঁছাতে কোনো বেগ পেতে হয়নি তাঁকে। গত বৃহস্পতিবার মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি সশরীরে যোগ দিয়েছেন।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে জিবরিল রাজৌব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জর্ডানের আম্মানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে সমস্ত নিয়ম মেনে আবেদন করার পরও তারা আমাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেয়নি। বিশ্ব ফুটবলের এত বড় একটা আসরে তাদের এই আচরণ অত্যন্ত হাস্যকর। আমি বর্তমানে মেক্সিকোতে আছি এবং এখানে তিউনিসিয়ার ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে দেখব, এরপর সরাসরি ফিলিস্তিনে ফিরে যাব।” এএফপি-র প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডার সরকারও ফিলিস্তিনি ফুটবল প্রধানের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। এর পেছনে গভীর ভূ-রাজনৈতিক কারণ রয়েছে দাবি করে রাজৌব বলেন, “আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে কিছু প্রভাবশালী মহল কোনোভাবেই চায় না যে আমরা বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের নির্মম আগ্রাসন ও নীতিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করি।”
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, জিবরিল রাজৌবের ভিসা না পাওয়ার পেছনে সাম্প্রতিক কিছু ক্রীড়া-কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব কাজ করছে। এর আগে গত এপ্রিলে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে অংশ নিয়েছিলেন রাজৌব। সে সময় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা (FIFA) সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর একটি বিশেষ অনুরোধ তিনি সরাসরি ফিরিয়ে দেন। ইসরায়েলি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের এক শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে সৌজন্যমূলক যৌথ ছবিতে দাঁড়াতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন ফিলিস্তিনি ফুটবল প্রধান। মূলত এর পর থেকেই পশ্চিমা দেশগুলোর কুদৃষ্টিতে পড়েন তিনি।
উল্লেখ্য, অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইহুদি বসতিতে গড়ে ওঠা ক্লাবগুলোর ফুটবল ম্যাচ পরিচালনা ও ইসরায়েলি লিগে তাদের অংশ নেওয়ার বিরুদ্ধে ফিফার কাছে দীর্ঘ দিন ধরে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দাবি করে আসছে ফিলিস্তিন। ফিলিস্তিনের দাবি, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে তাদের নিজেদের পবিত্র ভূখণ্ডে গড়ে ওঠা কোনো ক্লাব কোনোভাবেই ইসরায়েলি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে না। কিন্তু ফিফা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে (CAS) আনুষ্ঠানিক আপিল করেছে ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর ও বিতর্কিত অভিবাসন নীতির কারণে চলমান বিশ্বকাপে বিভিন্ন দেশের নাগরিক, ফুটবলার ও কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তীব্র জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। এর আগে বৈধ ভিসা ও ফিফার অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও সোমালিয়ার প্রখ্যাত রেফারি ওমর আরতানকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে নামার পর দেশে ঢুকতে না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। এছাড়া ইরান জাতীয় ফুটবল দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্টিং স্টাফ এবং আফ্রিকা মহাদেশের সেনেগাল ও আইভরি কোস্টের বিপুল সংখ্যক ফুটবল সমর্থককেও ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ, যা বিশ্বকাপের সর্বজনীন উৎসবের আমেজকে ক্ষুণ্ন করছে বলে মনে করছেন ফুটবলপ্রেমীরা।

