অনলাইন ডেস্ক
সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (৪ মে) আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে এই হামলাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ব্যবহৃত একাধিক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং কয়েকটি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। এতে তিনজন মাঝারি ধরনের আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজন হলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণের কথাও জানিয়েছে আমিরাত।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ ধরনের হামলা কেবল একটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের পক্ষ থেকেও এই ঘটনাকে ‘উসকানিমূলক ও বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানানো হয়েছে।
এর আগে একই দিনে হরমুজ প্রণালির কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার অভিযোগ তোলে আমিরাত। ওমান উপকূলের কাছে থাকা ওই জাহাজে আঘাত হানলেও এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানানো হয়।
আমিরাতের অভিযোগ, বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথে চাপ সৃষ্টি করা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলে সহায়তা বাড়ানোর কথা জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং পরিস্থিতিকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

