ওয়ান নিউজ ডেস্ক:
পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যু সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি বা যুদ্ধবিরতির আলোচনায় প্রধান বাধা হিসেবে সামনে এসেছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, ইরানকে যেকোনো ধরনের চুক্তির অংশ হিসেবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বারবার এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং বলেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া যাবে না। এই অবস্থানকে সামনে রেখে ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ অব্যাহত রেখেছে।
অন্যদিকে ইরান দাবি করছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। দেশটির বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উৎপাদন, চিকিৎসা গবেষণা ও শিল্পখাতে ব্যবহারের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার অধিকার তাদের রয়েছে বলেও দাবি তেহরানের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সাধারণত ৩ থেকে ৫ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ যথেষ্ট হলেও অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজন হয় প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত। জাতিসংঘের পারমাণবিক সংস্থা আইএইএ জানিয়েছে, ইরানের কাছে বর্তমানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে।
২০১৫ সালে ইরান ও বিশ্বশক্তিগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তির মাধ্যমে এই উত্তেজনা একসময় কিছুটা প্রশমিত হয়েছিল। তবে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র সেই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর পরিস্থিতি আবারও জটিল হয়ে ওঠে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে সমঝোতা না হলে মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা

