ওয়ান নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ চার মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যা আদতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বড় কৌশলগত পরাজয় হিসেবেই দেখছে ‘নিউইয়র্ক টাইমস’। আইনি প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে এবং অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে শুরু করা এই যুদ্ধে ট্রাম্পের ‘পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত বিজয়’ কিংবা ইরানকে ‘শর্তহীন আত্মসমর্পণে’ বাধ্য করার ঘোষণাগুলো ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে; উল্টো সামরিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক—তিন ক্ষেত্রেই ওয়াশিংটনকে চরম চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। চুক্তির প্রাথমিক রূপরেখা অনুযায়ী ট্রাম্পের কঠোর শর্তগুলোর বড় অংশই বাস্তবায়িত হয়নি, বরং পরিস্থিতি আগামী দুই মাসের মধ্যে ২০১৫ সালের সেই পারমাণবিক চুক্তির কাছাকাছি কোনো সমঝোতার দিকেই গড়াচ্ছে, যাকে ট্রাম্প একসময় ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে চুক্তি’ আখ্যা দিয়ে বাতিল করেছিলেন। যুদ্ধের একমাত্র বড় সাফল্য হিসেবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও বিশ্লেষকরা একে দেখছেন কেবল আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়া হিসেবে, যা প্রমাণ করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তেহরানের প্রভাব কতটা শক্তিশালী। চার মাসের এই সংঘাতে ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও তারা নিজেদের রাজনৈতিক কাঠামো টিকিয়ে রেখে নতুন দর-কষাকষির অবস্থানে ফিরে এসেছে; বিপরীতে বিপুল সামরিক শক্তি নিয়েও প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র সামরিক ভাবমূর্তি ও প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মক ধাক্কা খেয়েছে।

