ওয়ান নিউজ ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়ে এবার উত্তর ইসরায়েলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত ‘রামাত ডেভিড’ বিমানঘাঁটিতে সরাসরি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইসরায়েলের প্রধান বন্দর নগরী হাইফা থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই সামরিক ঘাঁটিতে গত রোববার (৭ জুন) রাতে এই বিধ্বংসী আক্রমণ চালানো হয়। আইআরজিসির এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ লেবানন এবং বৈরুতের বিভিন্ন উপশহরে সাম্প্রতিক সময়ে দখলদার ইসরায়েলি বিমান বাহিনী যে বর্বর ও উপর্যুপরি বিমান হামলা পরিচালনা করেছিল, তার প্রধান সামরিক ও লজিস্টিক কেন্দ্র ছিল এই রামাত ডেভিড ঘাঁটি এবং মূলত সেই ক্ষোভ ও প্রতিশোধ থেকেই এই স্থানটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করে ইরান অভিযোগ করেছে যে, ইতিপূর্বে হোয়াইট হাউসের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ফ্রন্টে একটি টেকসই যুদ্ধবিরতির যে কূটনৈতিক প্রস্তাব তেহরান গ্রহণ করেছিল, পশ্চিমা পরাশক্তি ও তাদের মিত্র ইসরায়েল সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। আইআরজিসির দাবি, লেবাননে নতুন করে বেসামরিক মানুষের ওপর ভয়াবহ হামলা চালানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে পরিচিত কৌশলগত হরমুজ প্রণালী, ওমান সাগর ও ভারত মহাসাগরে ইরানের মূল ভূখণ্ডের উপকূল এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর বারবার চোরাগোপ্তা আক্রমণ চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জোট মূলত যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি পুরোপুরি লঙ্ঘন করেছে। সংবেদনশীল আন্তর্জাতিক আলোচনার মধ্যেও ইরানের প্রধান বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে অবৈধ নৌ অবরোধ বজায় রাখা এবং একাধিক সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলার প্রতিবাদে রোববারের এই ব্যালিস্টিক মিসাইল অভিযানটি ছিল ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের জন্য কেবল একটি প্রাথমিক ‘সতর্কবার্তা’ মাত্র। একই সঙ্গে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে শক্তিশালী এই ইরানি বাহিনী জানায়, ভবিষ্যতে যদি ইসরাইল বা মার্কিন সামরিক জোট এই অঞ্চলে এ ধরনের বেআইনি হামলার ন্যূনতম পুনরাবৃত্তি করার দুঃসাহস দেখায়, তবে ইরানের পরবর্তী সামরিক জবাব হবে আরও বেশি ব্যাপক, বিধ্বংসী ও অল-আউট যুদ্ধমুখী; তবে এই আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা সত্যতার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বা মার্কিন পেন্টাগনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

