ওয়ান নিউজ ডেস্ক:
জাতীয় সংসদে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্যকে ঘিরে বিএনপির সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে তার বক্তব্যকে ‘আপত্তিকর’ ও ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার সংগঠনটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন ও সেক্রেটারি জেনারেল মো. তাজিরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে আরও প্রায় ৭০ জন মুক্তিযোদ্ধা একাত্মতা প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের মধ্যে সংসদে আক্রমণাত্মক ভাষার ব্যবহার উদ্বেগজনক। বিশেষ করে রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্বকে ঘিরে করা মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলছে।
মুক্তিযোদ্ধারা তাদের বক্তব্যে স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭১ সালে বিভিন্ন মত ও পটভূমির মানুষ একত্রিত হয়ে স্বাধীনতার সংগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর তারা ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শে যুক্ত হওয়াটা স্বাভাবিক এবং এটি তাদের সাংবিধানিক অধিকার।
বিবৃতিতে ফজলুর রহমানের অতীত ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, তিনি প্রশিক্ষণ নিলেও সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে সক্রিয় ছিলেন না—এমন অভিযোগও উঠে এসেছে।
মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ আরও জানায়, কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতে তার ‘মুক্তিযোদ্ধা’ পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা গ্রহণযোগ্য নয়। এমন মন্তব্য মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করা হয়।
একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক বক্তব্য পরিহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সংসদ হলো নীতি নির্ধারণ ও জনকল্যাণের জায়গা—এখানে শালীনতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা জরুরি।
শেষে মুক্তিযোদ্ধারা রাজনৈতিক বিভাজন কমিয়ে ঐক্যের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার আহ্বান জানান। তারা মনে করেন, গণতান্ত্রিক চর্চা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব।

