ওয়ান নিউজ ডেস্ক: আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপনের প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। কলকাতার ব্যস্ততম রেড রোডে যোগ দিবসের অনুষ্ঠানের জন্য দীর্ঘ সাত দিন যান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের বিপরীতে ঈদের নামাজের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাংশ। এই বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মুসলিম সম্প্রদায় এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে জড়িয়ে অত্যন্ত উগ্র ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন রাজ্য বিজেপির প্রভাবশালী নেতা ও মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ সাফ জানিয়ে দেন, ভারতে ধর্মীয় আচার পালনের জন্য রাস্তা বন্ধ করার দিন শেষ হয়ে গেছে। নামাজ পড়ার এত ইচ্ছা থাকলে বিক্ষোভকারীদের বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। বিজেপি এই মন্ত্রী বলেন, “যান, বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তানে চলে যান; সেখানে গিয়ে যত খুশি নামাজ পড়ুন, কেউ আপনাদের কিচ্ছু বলবে না। কিন্তু এখানে (ভারতে) এসব আর চলবে না। এ দেশের সরকার বদলে গেছে। সাধারণ মানুষ এই সমস্ত অরাজকতা বন্ধ করার জন্যই ভোট দিয়ে ক্ষমতার পরিবর্তন এনেছে। আর এসব নিয়মের বাইরে গিয়ে সুবিধা নেওয়া এখানে বন্ধ হবেই।”
রেড রোডে নামাজের অনুমতি না পাওয়ার ক্ষোভ প্রসঙ্গে তিনি আরও আক্রমণাত্মক ভাষায় বলেন, “উনারা কোন ‘হরি-দাস-পাল’ যে তাদের জন্য রাস্তা আটকাতে হবে? দেশের প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নিরাপত্তা প্রটোকল মেনে রাস্তা বন্ধ করাটা সম্পূর্ণ আইনসম্মত ও যৌক্তিক। প্রধানমন্ত্রী তো আর রোজ রোজ আসেন না, বছরে একবার আসছেন। গত ১০৭ বছর ধরে তো উনাদের সব ইচ্ছামতোই চলেছে, এখন একটা নিয়ম বন্ধ করাতে ওনাদের দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে!” প্রধানমন্ত্রীর সফরের কারণে কলকাতার যান চলাচল কম থাকা রাস্তাটিকেই বেছে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে শনিবার পশ্চিমবঙ্গে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রোববার রেড রোডের মূল কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির পাশাপাশি উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও। এই মেগা ইভেন্টের জন্য বিশাল মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির সুবিধার্থে গত রোববার রাত ১০টা থেকে আগামী ২১ জুন পর্যন্ত কলকাতার অন্যতম প্রধান এই সড়কটিতে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
একই স্থানে অতীতে ঈদের বড় জামাত অনুষ্ঠিত হলেও এবার সুরক্ষাজনিত ও প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়কে নামাজের অনুমতি দেয়নি স্থানীয় প্রশাসন। সরকারি এই দ্বিমুখী নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে সংখ্যালঘু নেতারা দাবি তুলেছেন, একই মাঠে যদি একটি আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের জন্য সাত দিন রাস্তা ব্লক করে রাখা যায়, তবে অন্য ধর্মের প্রধান উৎসবের জন্য কেন সামান্য সুযোগ দেওয়া হবে না? এই অধিকারের লড়াই ও বৈষম্যের প্রতিবাদের জবাবেই বিজেপি মন্ত্রীর এমন চরমপন্থী মন্তব্য পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

