ওয়ান নিউজ ডেস্ক:
পাকিস্তান-শাসিত আজাদ কাশ্মীরের রাওয়ালাকোটে সদ্য নিষিদ্ধ ঘোষিত যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) সমর্থকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত চারজন পুলিশ সদস্য নিহত ও আরও ২০ জন আহত হয়েছেন। রোববার (৭ জুন) রাতে আজাদ কাশ্মীর পুলিশের মহাপরিদর্শক লিয়াকত আলী মালিকের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে যে, উত্তেজিত আন্দোলনকারীরা কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতাল (সিএমএইচ) রাওয়ালাকোটে আকস্মিক হামলা চালালে ডিউটিরত চার পুলিশ সদস্য নিহত হন। পুলিশ প্রশাসনের দাবি, নিহত পুলিশদের আগ্নেয়াস্ত্র ও শটগানের গুলিতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং এই ঘটনাটিকে ‘সরাসরি সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জননিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের পক্ষেও অন্তত দুজন নিহত এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ গুরুতর জখম হয়েছেন; তবে পুরো কাশ্মীর অঞ্চলজুড়ে মোবাইল ডাটা ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় প্রকৃত হতাহতের সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠলে রাওয়ালাকোটে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং নিহতের ময়নাতদন্ত ও দাফন স্থগিত করে হাসপাতালের বাইরে অবস্থান নেন শত শত মানুষ। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হাসপাতাল চত্বর থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে দাঙ্গা পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ছুড়লে উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং একপর্যায়ে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এদিকে নিহত ব্যবসায়ীর পরিবার এবং আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, সরকার জেএএসি-কে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা দিয়ে যে নিষিদ্ধকরণের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, তা পুরোপুরি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা মরদেহ দাফন করবে না; যার ফলে হাসপাতালের সামনে চলমান এই অবরোধের কারণে রোগী ও সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

