ওয়ান নিউজ ডেস্ক:
গাজা উপত্যকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী বহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’-তে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। উপকূল থেকে বহু দূরে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্র জানায়, গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের পশ্চিমে সমুদ্রের গভীরে অবস্থানরত বহরের ওপর এই অভিযান শুরু হয়। স্বেচ্ছাসেবকদের দাবি, ইসরায়েলি বাহিনী বহরের অন্তত একটি জাহাজে উঠে তল্লাশি চালিয়েছে এবং কয়েকটি জাহাজের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
ত্রাণবাহী এই বহরে প্রায় ১০০টি নৌযান এবং এক হাজারের বেশি অধিকারকর্মী অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। ইসরায়েলি পক্ষের দাবি, এত বড় বহর গাজা উপকূলে পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারত, তাই আগেই অভিযান চালানো হয়েছে।
বহরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ইসরায়েলি স্পিডবোটগুলো জাহাজের খুব কাছাকাছি গিয়ে অবস্থান নেয় এবং সশস্ত্র সদস্যরা অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে কর্মীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তারা অন্তত কয়েকটি জাহাজের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বহরের কয়েকটি নৌযান ইতোমধ্যে তাদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়ে ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ দ্রুত আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, অবরুদ্ধ গাজার মানুষের জন্য খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগে বাধা দেওয়া মানবিক নীতির পরিপন্থী।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় এমন সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও সমুদ্রসীমা বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। বিশেষ করে অন্য দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের কাছাকাছি এমন অভিযান কূটনৈতিকভাবে সংবেদনশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
উল্লেখ্য, এর আগেও গাজামুখী ত্রাণবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। বর্তমান ঘটনাও একই ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং গাজার চলমান মানবিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

