জর্ডানে মার্কিন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের ১২টি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

জর্ডানে মার্কিন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের ১২টি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ওয়ান নিউজ ডেস্ক: কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আকস্মিক আক্রমণের পর এবার জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ও কৌশলগত বিমানঘাঁটিতে একযোগে ১২টি শক্তিশালী দূরপাল্লার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবরটি নিশ্চিত করেছে।

আইআরজিসি-র অ্যারোস্পেস ফোর্স তাদের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই হামলাকে আমেরিকার বিরুদ্ধে একটি ‘শাস্তিমূলক অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা দাবি করেছে, জর্ডানের অভ্যন্তরে অবস্থিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম বৃহত্তম কৌশলগত ঘাঁটি ‘আল-আজরাক বিমানঘাঁটি’ (মুওয়াফফাক সালতি এয়ার বেস) এবং এর মূল নিয়ন্ত্রণ বা কমান্ড সেন্টারকে লক্ষ্য করে এই নিখুঁত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, তাদের এই ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আঘাতে মার্কিন কমান্ড সেন্টারের মূল ভবন ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ঘাঁটির রানওয়ে ও হ্যাঙ্গারে থাকা অত্যাধুনিক ‘বিপুল সংখ্যক মার্কিন যুদ্ধবিমান’ (যার মধ্যে এফ-৩৫, এফ-১৫ ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান রয়েছে) চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। তবে এই ক্ষয়ক্ষতির দাবিটি এখনও স্বাধীন কোনো সূত্র বা মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।

উল্লেখ্য, জর্ডানের এই আল-আজরাক বিমানঘাঁটিটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমান বাহিনীর অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, যেখান থেকে মূলত সিরিয়া ও ইরাক অঞ্চলে মার্কিন ড্রোন এবং যুদ্ধবিমান পরিচালনা করা হয়। এর আগে গতকাল ইরান দাবি করেছিল যে, তারা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল তথা কুয়েতের আলী আল সালেম ও আহমেদ আল জাবের এবং বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটিসহ মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের মোট ১৮টি সামরিক অবস্থানে সফল ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে। মার্কিন বিমান বাহিনী কর্তৃক ইরানের সুপেয় পানি শোধনাগার ও বেশ কয়েকটি সামরিক রাডারে হামলার জবাবেই তেহরান এই একের পর এক পাল্টা আঘাত হানছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *