ওয়ান নিউজ ডেস্ক: সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পর গত বুধবার রাতে রাজধানীর একটি ডিওএইচএস এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেফতার হওয়া পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বেরিয়ে আসছে ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কজনক এই ঘটনার চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। তৎকালীন মেজর মঞ্জুরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও হত্যা মামলার ৬ নম্বর আসামি মোজাফফরকে বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যেখানে তিনি প্রথম গুলিটি কে ছুড়েছিল, কীভাবে মরদেহ সরানো হয়েছিল এবং ঘাতকরা কার সহায়তায় পালিয়েছিল তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দিলেও নিজের দায় কিছুটা এড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সেনা অভ্যুত্থানে জিয়া নিহত হওয়ার পর ২ লাখ টাকা পুরস্কারঘোষিত এই সেনা কর্মকর্তা প্রথমে গহিন অরণ্যে আত্মগোপন করেন এবং পরে দালালদের মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশে পালিয়ে যান; পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে দেশে ফিরে লোকচক্ষুর অন্তরালে সম্পূর্ণ বন্দিদশায় জীবনযাপন করতে থাকেন তিনি। এদিকে তার গ্রেফতারের পর সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. এম সাখাওয়াত হোসেন ও অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জিয়া হত্যার প্রকৃত মাস্টারমাইন্ড, দেশি-বিদেশি ইন্ধনদাতা এবং এরশাদ আমলের সম্ভাব্য সুবিধাভোগীদের মুখোশ উন্মোচন করতে মোজাফফরের কাছ থেকে সমস্ত তথ্য আদায় করা অত্যন্ত জরুরি, তাই তড়িঘড়ি করে তার শাস্তি কার্যকর করা ঠিক হবে না। একইসঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতারাও এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কুশীলবদের পরিচয় ও মোজাফফরকে পালাতে সহায়তাকারীদের নাম প্রকাশের জোর দাবি জানিয়েছেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে প্রচলিত সেনা আইনের আওতায় তাকে বর্তমানে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সরকারও এই স্বাধীন বিচার প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে।

