ওয়ান নিউজ ডেস্ক: বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠে নামছে ফুটবলের এক বিরল ও নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা উঁচিয়ে ধরার পর এবার টানা দ্বিতীয়বার ট্রফি জিতে ইতালিয়ান ও ব্রাজিলিয়ান কীর্তিতে ভাগ বসাতে চায় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।
বিশ্বকাপের দীর্ঘ ফুটবল ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি দেশ নিজেদের শিরোপা অক্ষুণ্ণ রাখতে পেরেছে। ১৯৩৮ সালে ইতালির পর সর্বশেষ ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপে এই কীর্তি গড়েছিল পেলে-গারিঞ্চার ব্রাজিল। এরপর দীর্ঘ ৬৪ বছর ধরে কোনো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলই ব্যাক-টু-ব্যাক ট্রফি জয়ের স্বাদ পায়নি। ফলে মেক্সিকো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার যৌথ মঞ্চে আর্জেন্টিনার সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো এই দীর্ঘ খরা কাটিয়ে নতুন রেকর্ডের জন্ম দেওয়া।
আলবিসেলেস্তেদের এই মহাযজ্ঞের মূল কাণ্ডারি হিসেবে যথারীতি থাকছেন জাদুকর লিওনেল মেসি। ৩৮ বছর বয়সী এই মহাতারকার জন্য এটিই ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। কাতারে নিজের অধরা স্বপ্ন পূরণ করলেও, এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আরেকটি সোনালী ট্রফি উপহার দিয়ে রাজকীয় বিদায় নেওয়াই মেসির প্রধান লক্ষ্য।
চ্যাম্পিয়ন দলটির হেড কোচ লিওনেল স্কালোনি তাঁর বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত স্কোয়াডের ওপরই আস্থা রাখছেন। গোলপোস্টের নিচে ‘বাজপাখি’ এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, রক্ষণভাগে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবং আক্রমণভাগে লাউতারো মার্তিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজদের নিয়ে গড়া বর্তমান দলটিকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড মনে করা হচ্ছে। তাছাড়া বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের দাপুটে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ২০২৪ কোপা আমেরিকার শিরোপা জয় আলবিসেলেস্তেদের আত্মবিশ্বাসকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে মেগা এই টুর্নামেন্টে নামার আগে স্কালোনির রণকৌশল নিয়ে কিছুটা সমালোচনাও হচ্ছে। অনেক ফুটবল বিশ্লেষকের মতে, মূল মঞ্চে নামার আগে আর্জেন্টিনা তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গা গরম করেছে। ফলে নকআউট পর্বের কঠিন সমীকরণে ফ্রান্স, ব্রাজিল কিংবা স্পেনের মতো ইউরোপ-আমেরিকার পরাশক্তিদের মুখোমুখি হলে দলটি কতটা প্রতিরোধ গড়তে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
পাশাপাশি বিশ্বকাপের এই রোমাঞ্চকর আবহের মধ্যেই দলের বেশ কয়েকজন তরুণ তারকার ক্লাব ক্যারিয়ার নিয়ে দলবদলের জোর গুঞ্জন চলছে। হুলিয়ান আলভারেজ, এনজো ফার্নান্দেজ, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে দলে ভেড়াতে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর টানাটানি ফুটবল পাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
সব মিলিয়ে মুকুট ধরে রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জ, মহাতারকা মেসির বিদায়ী সংবর্ধনা এবং ফুটবলের পাতায় নতুন ইতিহাস লেখার—এই ত্রিমুখী লক্ষ্যকে সামনে রেখেই ২০২৬ সালের বিশ্বজয়ের অভিযানে নামছে আর্জেন্টিনা।

