তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন মুখ বিজয়, নির্বাচনে চমক দেখানোর আভাস

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন মুখ বিজয়, নির্বাচনে চমক দেখানোর আভাস

ডেস্ক রিপোর্ট:
তামিলনাড়ুর রাজনীতি বরাবরই চলচ্চিত্র তারকা ও রাজনীতিবিদদের মেলবন্ধনের জন্য পরিচিত। এই রাজ্যে বহু তারকা রাজনীতিতে এসে সফলতার নজির গড়েছেন। এমজি রামচন্দ্রন (এমজিআর) ও জে জয়ললিতার মতো জনপ্রিয় অভিনেতারা পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। একইভাবে ডিএমকের প্রতিষ্ঠাতা সিএন আন্নাদুরাই এবং এম করুণানিধিও চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত থেকে রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। এই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবার নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয়।

তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ভোট গণনার মধ্যেই বিজয়ের নেতৃত্বাধীন দল তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) অপ্রত্যাশিতভাবে এগিয়ে থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে চমক সৃষ্টি করেছে। কয়েক দিন আগেও অধিকাংশ এক্সিট পোল ক্ষমতাসীন ডিএমকের জয়ের পূর্বাভাস দিলেও কিছু বিশ্লেষণে ‘বিজয় ফ্যাক্টর’ বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। সেখানে টিভিকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন পেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়, যদিও এক্সিট পোল সব সময় চূড়ান্ত ফলের প্রতিফলন নয়।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেন বিজয় এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানান। তিনি রাজনীতিকে ব্যক্তিগত পেশা নয়, বরং মানুষের সেবার মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরেন। একই সময়ে তিনি তাঁর চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণাও দেন, যেখানে ‘থালাপাথি ৬৯’ (পরবর্তীতে ‘জন নায়কন’) তাঁর শেষ সিনেমা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

বর্তমানে ৫১ বছর বয়সী এই অভিনেতা পেরাম্বুর ও তিরুচি পূর্ব আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর দল দাবি করছে, তারা নীতিনির্ভর ও জনকেন্দ্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়—যেখানে জনগণের অংশগ্রহণই মূল শক্তি। বিজয়ের রাজনৈতিক যাত্রা হঠাৎ করে শুরু হয়নি; ২০০৯ সালে তাঁর ভক্ত সংগঠন ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে এবং ধীরে ধীরে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে সক্রিয় হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে বিভিন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংগঠনটি নিজেদের ভিত্তি তৈরি করে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারই তাঁর রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার বড় ভিত্তি। তাঁর সিনেমাগুলোতে সামাজিক ন্যায়বিচার, দুর্নীতি বিরোধিতা এবং সাধারণ মানুষের অধিকারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়ায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তিনি ব্যাপক সমর্থন অর্জন করেন। তবে তাঁর রাজনৈতিক পথচলায় বিতর্কও রয়েছে, যার মধ্যে একটি জনসমাবেশে দুর্ঘটনা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কিছু সমালোচনা রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ প্রচলিত দলগুলোর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে নতুন বিকল্প খুঁজছে, যা বিজয়ের পক্ষে কাজ করছে। তিনি ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, বিজেপি বা ডিএমকের সঙ্গে জোটে না গিয়ে স্বতন্ত্রভাবে রাজনীতি করতে চান।

তাঁর দলের নির্বাচনী ইশতেহারে তরুণ, নারী ও জেলেদের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। এতে রয়েছে আর্থিক সহায়তা, ভর্তুকি, শিক্ষা ঋণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের মতো বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি। রাজনৈতিক মঞ্চে ‘হুইসেল’ প্রতীক নিয়ে তিনি পরিবর্তনের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সব মিলিয়ে, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে অভিনেতা বিজয়ের উত্থান নতুন এক সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে এই উত্থান কতটা বাস্তব রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ নিচ্ছে।

সূত্র: আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *