একেএম বজলুর রহমান, পঞ্চগড়
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের মড়াতলি থেকে মাঝাপাড়া পর্যন্ত কাঁচা রাস্তায় এইচবিবি করনের প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম আর দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ৯ ফুট প্রস্থ আর ৩২৮ মিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট এ প্রকল্পের জন্য ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। দুই দফায় ইতিমধ্যে প্রকল্পের পুরো টাকা উত্তোলনও করা হয়েছে।
নিম্ন মানের কাজ করার কারনে রাস্তার ইট ধসে গিয়েছিল। পরে আবার সেগুলো সংস্কার করা হয়। ধারনা করা হচ্ছে এই প্রকল্পের পনেরো লক্ষ টাকার মধ্যে তিন ভাগের দুভাগ টাকা আত্বসাত করা হয়েছে আর একভাগ টাকার কাজ করা হয়েছে। স্থানীয়দের ধারনা সরজমিনে গিয়ে প্রকল্পের কাজটি যাচাই করলে দেখা যাবে ৮ থেকে ৯ লাখ টাকার কাজ করা হয়েছে ও বরাদ্দ অনুযায়ী প্রকল্পটির দৈর্ঘ্য আরো বাড়তো।
দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের ২০২৫- ২৬ অর্থ বছরে বরাদ্দ বিভাজনে এ প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত নাই। দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আইন ও পরিপত্রের বহির্ভূত ভাবে প্রকল্পটি গ্রহন ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যা পরিপত্রটিকে বৃদ্ধাংগলী দেখানোর সমান।
বরাদ্দটির তালিকা দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদ হতে দেয়া হয়নি। বরাদ্দটি পরিষদের রেজুলেশনেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। মনগড়া ভাবে প্রকল্পটি গ্রহন করা হয়েছে।
পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট প্রকল্প কমিটির সভাপতি হয়েছেন দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুরুজ্জামান। কমিটির বাকি চার সদস্যরা হল সম্পাদক ইসাদুল সদস্য পদে চর তিস্তাপাড়ার বাদশা, মরাতল্লীর সবুজপাড়ার আবু বকর ও আশ্রায়ন প্রকল্পের জলিল। এলাকায় গিয়ে প্রকল্পের সদস্যদের খোঁজ করে পাওয়া যায়নি। ধারনা করা হচ্ছে বাকি সদস্যদের নাম ও স্বাক্ষর ভুয়া। টাকা আত্বসাত করার জন্যই ভুয়া কমিটি করা হয়েছে।
দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতি নুরজ্জামান জানান, আমি নামে মাত্র প্রকল্প সভাপতি হলেও প্রকল্পের পুরো কাজ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র রায়। পিআইও নিজেই রুবেল নামে এক ঠিকাদার দিয়ে কাজ করিয়েছেন। তবে প্রকল্পের কাজে সিংহ ভাগ অনিয়মের কথা অস্বীকার করে বলেন কিছুটা অনিয়ম হয়েছে।
প্রকল্পের সম্পাদক করা হয়েছে সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইসাদুল হককে। নিয়ম অনুযায়ী তিনি প্রকল্পের কমিটিতে থাকতে পারেন না। এবিষয়ে তিনি জানান, কত টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছিল সেটা বলতে পারবো না। তবে কাজটি পিআইও নিজে করেছে। কাজের মান কেমন হয়েছে তাও বলতে পারবো না। আর প্রকল্প কমিটির বাকী সদস্যরা কে কে তাও জানিনা। কোন কিছুই আমরা জানিনা।
কতটুকু কাজ করা হয়েছে, কত টাকা খরচ করা হয়েছে কারো কাছে কোন তথ্যই নাই কারো কাছে। বাস্তবে কাজের সাথে ইস্টিসেটের কোন মিল নেই। দায়সারা ভাবে করা হয়েছে প্রকল্পের কাজ।
জানা যায়, উক্ত প্রকল্পে ধারনা করা হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার ইট বসানো হয়েছে তাতে ইটের মূল্য প্রায় ৭ লাখ ১৫ হাজার এবং সেখানে মিস্ত্রি খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখের মত এবং বালু ফেলানো হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকার মত। সব মিলে খরচ খরচ হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ১৫ হাজার। বাকি টাকা আত্বসাত করা হয়েছে।
স্থানীয় এলাকার লোকজনেরা জানান, এখানে যে পরিমান ইট, বালু আর মাটি দেয়া হয়েছে বিশেষ করে ইট। তার হিসেব করলেই খরচের প্রকৃত পরিমান বের হয়ে আসবে। তারা জানান প্রকল্পের কমিটির সদস্য নামে মাত্র হলেও পিআইও বাবুল চন্দ্র রায় নিজেই বালু, ইট সরবরাহ করেছেন। মিস্ত্রিদের নিজেই মালামালের টাকা প্রদান করেছেন।
তারা আরও বলেন, অন্য জায়গার ইন্জিনিয়ার ও দুদক দিয়ে তদন্ত করলেই তাদের অনিয়ম বের হয়ে আসবে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র রায় বলেন, প্রকল্পের কাজ আমি কেন করবো, মেম্বার নিজে কাজ করছে। তার একাউন্টে টাকা দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজে অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, টিএনও এবং আমি সহ মাপ ঝোক করে কাজ করা হয়েছে। কাজে কোন অনিয়ম হয়নি।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক জানান, প্রকল্পের সভাপতিকে আমার কাছে অভিযোগ দিতে বলেন। কথা বলতে বলেন আমার সাথে। পরে বিষয়টি দেখতেছি।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারি কমিশনার, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট এবং জেলা ত্রান ও পূর্নবাসন অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবীর সাহার মোবাইলে ফোন দেয়ার পর কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। এজন্য তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

