ওয়ান নিউজ ডেস্ক: চলতি বিশ্বকাপে স্পেনের মতো পরাশক্তি দলের বিপক্ষে ম্যাচসেরা হয়েও মাঠের মধ্যেই অশ্রুসিক্ত চোখে ভেঙে পড়েছিলেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা। ৪০ বছর বয়সী এই তারকা দুর্দান্ত সাতটি সেভ করে দলের জন্য ০-০ গোলের ঐতিহাসিক ড্র এনে দেন। তবে ম্যাচ শেষে মাঠের এই বীরকে দেখা যায় অঝোরে কাঁদতে। আলজাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে তাঁর এই কান্নার পেছনের এক আবেগঘন এবং যন্ত্রণাদায়ক গল্প।
ম্যাচ পরবর্তী সময়ে ভোজিনহা জানান, তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় এবং ঐতিহাসিক এই মুহূর্তে গ্যালারিতে উপস্থিত থাকতে পারেননি তাঁর মা আনা ক্যান্ডিদা এভোরা। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার জন্য যে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন ছিল, তা জোগাড় করতে পারেনি তাঁর পরিবার। মূলত, চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কেপ ভার্দের নাগরিকদের ভিসা ফি ছাড়াও সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য বন্ড জমা দেওয়ার নিয়ম চালু করে। অতিরিক্ত এই আর্থিক চাপের কারণেই শেষ পর্যন্ত মায়ের ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে হাজারো মাইল দূর থেকে টেলিভিশনের পর্দায় ছেলেকে ইতিহাস গড়তে দেখতে হয়েছে মাকে।
সংবাদ সম্মেলনে আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে ভোজিনহা বলেন, ‘আমি বড় হয়েছি আমার দাদা-দাদির কাছে, যারা কয়েক বছর আগেই মারা গেছেন। তাঁরাই ছিলেন আমার পৃথিবী। আর আজকের এই দিনে আমার মা-ও পাশে নেই। এই মুহূর্তটির জন্য আমি ২৫ বছর ধরে লড়াই করছি। একসময় খেলা ছেড়ে দেওয়ার চিন্তাও করেছিলাম, কিন্তু স্বপ্নের পিছু ছাড়িনি।’

