ওয়ান নিউজ ডেস্ক: ক্ষুদ্র ও মাঝারি সারির ব্যবসায়ীদের তীব্র বিরোধিতার মুখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘোষিত প্যাকেজ ভ্যাট ব্যবস্থা কার্যকর না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, যার ফলে এসএমই খাতের পূর্ববর্তী নিয়মই বলবৎ থাকছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের কারণে ছোট ব্যবসায়ীদের মাসিক আড়াই লাখ টাকা কিংবা বার্ষিক ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রির ওপর কোনো ভ্যাট দিতে হবে না এবং ৩০ থেকে ৫০ লাখ টাকা টার্নওভারের ক্ষেত্রে হিসাবের জটিলতাহীন ৪ শতাংশ হারে টার্নওভার ট্যাক্স বহাল থাকবে, তবে বার্ষিক ৫০ লাখ টাকার বেশি টার্নওভারে সাধারণ নিয়মে ১৫ শতাংশ ভ্যাটের আওতায় আসতে হবে। এর আগে ১১ জুন জাতীয় সংসদে দেওয়া বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মুদি দোকান, তৈরি পোশাক, আসবাব ও রেস্তোরাঁসহ মোট ১৬টি খাতের ক্ষুদ্র ও খুচরা ব্যবসায়ীদের কর পরিশোধ সহজ করতে এবং ভ্যাটের আওতা বাড়াতে এলাকা ও বাজারের ধরন অনুযায়ী নির্দিষ্ট অঙ্কের প্যাকেজ ভ্যাটের প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু বাজেট পেশের পর থেকেই বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্টরা এটিকে ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য হয়রানিমূলক আখ্যা দিয়ে আন্দোলনে নামলে নতুন সরকার তাদের প্রথম বাজেটেই এই খাতকে অস্বস্তিতে না ফেলতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রীর যৌথ নির্দেশনায় এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের হাত ধরে এই প্যাকেজ ভ্যাট প্রথার প্রচলন ঘটলেও ২০১২ সালের নতুন আইনের মাধ্যমে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এটি বিলুপ্তির উদ্যোগ নেয় এবং ২০১৭ সালের জুলাইয়ে এনবিআর তা সম্পূর্ণ বাতিল করে দেয়; তবে এবার প্যাকেজ ভ্যাট কার্যকর না হলেও ভ্যাটের জাল বিস্তারে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ও এমএফএস মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট চালুর মতো ৭টি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর বা বিআইএন (BIN) গ্রহণের বিদ্যমান বাধ্যবাধকতা কঠোরভাবে বহাল থাকবে।

