ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিজ বাড়িতেই অবরুদ্ধ এক প্রতিবন্ধীর পরিবার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিজ বাড়িতেই অবরুদ্ধ এক প্রতিবন্ধীর পরিবার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার দাবী করায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক প্রতিবন্ধীর পরিবার সমাজচ্যুত করে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্বজন ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের তেলিপাড়া মোল্লা বাড়িতে। ভূক্তভেগী ও তার পরিবার জানায় পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে পাঁচ দিন বাসায় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ৫ই জুলাই চিকিৎসার জন্য স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হলে পথরোধ করে হামলা চালানো হয়। এতে প্রতিবন্ধী সুমন মোল্লা (৪৪) গুরুতর আহত হন।

সুমন মোল্লা জানান, তার স্ত্রী নিলা বেগম (লাইলি বেগম) ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে আরফান মোল্লাকে নিয়ে তার সংসার। বাড়ির সামনে থাকা একটি দোকানই তাদের আয়ের অন্যতম উৎস। তার দাবি,সদর উপজেলার সুহিলপুর বাজার সংলগ্ন প্রায় ১৬ শতক জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। জমিটি তার বাবা কিনলেও দলিল তার মায়ের নামে হওয়ায় পরে চার ভাই নিজেদের নামে লিখে নেন। তিনি নিজের ন্যায্য অংশ দাবি করলে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা দেওয়া হয় এবং বিভিন্নভাবে নির্যাতন শুরু হয়।

সমাজ চ্যুত করায় নিজের দোকানেও যেতে দেওয়া হয় না। এমনকি এলাকার কেউ ওই দোকান থেকে কেনাকাটা করলে বা কোনো শিক্ষার্থী সেখানে গেলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও জুতা দিয়ে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, জায়গা-জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে সুমন মোল্লাকে সামাজিকভাবে একঘরে করে রাখা হয়েছে । এছাড়া তার দোকানে কেউ যেন কেনাকাটা না করে, সে বিষয়েও এলাকায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

অন্যদিকে অভিযুক্ত ভাইরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের ভাষ্য, এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ অনুষ্ঠিত হলেও সুমন পক্ষ সালিশে উপস্থিত হয়নি। পরে এলাকাবাসী তাদের বিষয়ে সহযোগিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

এ ঘটনায় থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানান,এ বিষয়ে এখনো কোন অভিযোগ পাইনি । অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *