‘মাত্র দেড় পৃষ্ঠার খসড়া চুক্তি’: শুক্রবার প্রকাশের ঘোষণা দিয়ে যা বললেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স

‘মাত্র দেড় পৃষ্ঠার খসড়া চুক্তি’: শুক্রবার প্রকাশের ঘোষণা দিয়ে যা বললেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স

ওয়ান নিউজ ডেস্ক: আগামী শুক্রবারের (১৯ জুন) আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি চুক্তির খসড়া প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। দুই দেশের দীর্ঘ বৈরিতা ও চার মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে হওয়া এই সমঝোতা স্মারকটিকে (এমওইউ) অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও সাধারণ একটি নথি হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

মার্কিন গণমাধ্যমগুলোতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জে ডি ভ্যান্স জানান, হোয়াইট হাউস ও তেহরানের মধ্যকার এই খসড়া চুক্তিটি মূলত মাত্র দেড় পৃষ্ঠার একটি সংক্ষিপ্ত দলিল। এটি কোনো জটিল বা চূড়ান্ত চুক্তি নয়, বরং এর মূল উদ্দেশ্য হলো তাত্ক্ষণিকভাবে দুই পক্ষের যুদ্ধ বন্ধ করা এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বা ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা। চুক্তির বাকি খুঁটিনাটি ও স্পর্শকাতর বিষয়গুলো পরবর্তী কারিগরি ও প্রযুক্তিগত আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে।

জে ডি ভ্যান্স চুক্তির মূল শর্তাবলি উল্লেখ করে বলেন, এই সমঝোতার অধীনে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি, তেহরান যাতে ভবিষ্যতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করতে না পারে, চুক্তিতে সে সংক্রান্ত একটি কঠোর ও যাচাইযোগ্য অঙ্গীকারনামা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মাধ্যমে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ধ্বংস এবং কঠোর নজরদারির পরই কেবল দেশটির ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

মার্কিন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সূত্রমতে, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে এই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। চুক্তি স্বাক্ষরের দিন থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ করমুক্ত ও উন্মুক্ত ঘোষণা করা হবে। এই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির আওতায় চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিনের জন্য বৃদ্ধি পাবে, যার মধ্যে দুই দেশ একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী শান্তিসুড়ঙ্গ তৈরিতে জোরদার আলোচনা চালাবে।

এদিকে, এই চুক্তি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের এই চুক্তি ইসরায়েল মানতে বাধ্য নয় এবং ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক শক্তিধর হতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর কৌশলগত নিরাপত্তা অঞ্চল ও সামরিক অভিযান আগের মতোই বজায় থাকবে।

অন্যদিকে, তেহরানের পক্ষ থেকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই ঐতিহাসিক সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা হ্রাসে একটি বড় ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে অতীতে পরমাণু চুক্তি থেকে ওয়াশিংটনের আকস্মিক বেরিয়ে যাওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে হোয়াইট হাউসের প্রতি তেহরানের দীর্ঘদিনের গভীর ও ঐতিহাসিক অবিশ্বাস এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *