ওয়ান নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট উত্তেজনার মাঝেও পারমাণবিক কর্মসূচি ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ডে সরাসরি বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। শনিবার রাতে মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনার উদ্দেশে ওয়াশিংটন ত্যাগ করেছেন এবং ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। যদিও ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে তারা হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধ করে দিয়েছে, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এই খবর উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে যে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। বিবিসিতে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে গোলাগুলি অব্যাহত ছিল এবং শনিবারের সিরিজ বিমান হামলায় লেবাননে অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, তারা হিজবুল্লাহর ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং এ ঘটনায় তাদের চার সেনাও প্রাণ হারিয়েছেন। হিজবুল্লাহ এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ভেস্তে দেওয়ার ইসরায়েলি প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছে। আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আলোচনার শুরুতে উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২ মার্চ থেকে চলা এই সংঘাতে এ পর্যন্ত ৪,০৫৭ জন নিহত হয়েছেন। এদিকে ভাইস-প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স জানিয়েছেন যে, তিনি এই বৈঠকে পারমাণবিক কর্মসূচি ও লেবাননে যুদ্ধবিরতির অগ্রগতির বিষয়ে আশাবাদী এবং পুরো অঞ্চলকে নিরাপদ রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য।

