আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যেকোনো ধরনের বিদেশি হুমকি ও বৈরিতা মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী ও প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। জাতীয় শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, সেনাপ্রধান তার বক্তব্যে জাতীয় ঐক্য ও জনগণের সমর্থনকে দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও দেশপ্রেমের ওপর ভিত্তি করেই ইরান যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম।
মেজর জেনারেল হাতামি বলেন, ইরান সেনাবাহিনী কেবল আধুনিক সামরিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং এটি জাতির সম্মিলিত ইচ্ছাশক্তি ও আত্মত্যাগের প্রতীক। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে অব্যাহতভাবে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। সম্ভাব্য যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন সেনাপ্রধান।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতার কারণে ইরানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সাম্প্রতিক অস্থিরতার মধ্যেও তেহরান বারবার তাদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদারের কথা জানিয়েছে।
বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নেতৃত্বের প্রশংসা করে সেনাপ্রধান বলেন, শক্তিশালী ও দৃঢ় নেতৃত্বের কারণেই ইরান সেনাবাহিনী আরও সংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে পৌঁছেছে। তার মতে, দেশের প্রতিরক্ষা শক্তি শুধু অস্ত্রের ওপর নির্ভর করে না; বরং আদর্শ, জাতীয় চেতনা ও জনগণের ঐক্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
সেনাপ্রধান আরও সতর্ক করে বলেন, শত্রুপক্ষের যেকোনো ভুল পদক্ষেপের কঠোর জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সেনাসদস্যদের সতর্কতা, পেশাদারিত্ব ও দেশরক্ষার মানসিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর ২ মে ইরানে জাতীয় শিক্ষক দিবস পালিত হয়। এই উপলক্ষে রাষ্ট্র ও সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জাতির উদ্দেশে বার্তা দেওয়া দেশটির একটি প্রচলিত রীতি। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য প্রতিরক্ষা অবস্থান স্পষ্ট করার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ জনসমর্থন দৃঢ় করার কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

