সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলা নিয়ে ট্রাম্পের ক্ষোভ, নতুন উত্তেজনা

সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলা নিয়ে ট্রাম্পের ক্ষোভ, নতুন উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সিরিয়ার একটি বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ওই এলাকায় তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি ও কৌশলগত বিস্তার রোধ করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে মার্কিন প্রশাসনকে জানিয়েছে ইসরায়েল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন, তেল আবিব ও আঙ্কারার মধ্যকার সম্পর্কে নতুন করে টানাটানি শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবারের ভোরে সিরিয়ার উত্তরঞ্চলের আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে অন্তত ৮টি বোমা বর্ষণ করে ইসরায়েলি বাহিনী। তুর্কি সীমান্ত থেকে মাত্র ৪৫ মাইল দূরে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে সম্প্রতি নতুন করে তৈরি করা রানওয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে এতে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

শুরুতে ইসরায়েল বিষয়টিকে অস্বীকার করে খবর প্রকাশে সেন্সরশিপ জারি করলেও সিরিয়া সম্পর্কিত মার্কিন প্রতিনিধি ও তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম বারাক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ বিষয়টি প্রকাশ করে দেন। তিনি এটিকে একটি ‘অপ্রয়োজনীয় সামরিক উত্তেজনা’ হিসেবে বর্ণনা করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

হামলার ২০ ঘণ্টা পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করে। তারা এক্স-এ এক বার্তায় দাবি করে, সিরিয়া চুক্তি লঙ্ঘন করে আলেপ্পোর কাছের একটি বিমানঘাঁটিতে তুর্কি সেনা মোতায়েনের সুযোগ দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল। তারা আরও উল্লেখ করে, সিরিয়াকে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও তারা তা উপেক্ষা করেছে। ইসরায়েল নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে এই হুমকি সহ্য করবে না।

অন্যদিকে, সিরিয়া সরকারের এক সূত্র জানায়, বিমানঘাঁটির রানওয়ে সংস্কারের পেছনে কোনও শত্রুতামূলক উদ্দেশ্য নেই তা তারা আগেই ইসরায়েলকে বার্তা পাঠিয়ে নিশ্চিত করেছিল। এই হামলা নিয়ে তুর্কি এক কর্মকর্তা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ওই ঘাঁটিতে তুর্কি বাহিনীর কোনও উপস্থিতি ছিল না। প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালিয়ে অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করতে ইসরায়েল একের পর এক মনগড়া অজুহাত দাঁড় করাচ্ছে।

সিরিয়া ও তুরস্ক উভয় সরকারই এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়ার আহমেদ আল-শারা সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলাকে একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখেন এবং একই সঙ্গে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক রয়েছে। ফলে ইসরায়েলের এই আগ্রাসী পদক্ষেপে হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তারা চরম ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত হয়েছেন। তবে এর মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, মার্কিন প্রশাসন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিষয়ে কোনও কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত নয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা,ইসরায়েলের আসন্ন অক্টোবর নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই নেতানিয়াহু সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে। কারণ, সিরিয়া সরকার দীর্ঘদিন ধরেই কোনও শত্রুতামূলক পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ সমন্বয় কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। কিন্তু ইসরায়েল এতে রাজি না হয়ে সিরিয়ায় তাদের সামরিক অনুপ্রবেশ বাড়িয়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই সিরিয়া এখন আত্মরক্ষার কথা ভাবছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসন সিরিয়াকে আপাতত সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ইসরায়েলি নির্বাচন পার হলেই কেবল বিষয়টির স্থায়ী সমাধান সহজ হতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *