ওয়ান নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক জোরপূর্বক পুশ-ইনের অপচেষ্টাকে কেন্দ্র করে নতুন করে তৈরি হওয়া তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই আজ সোমবার (৮ জুন) থেকে শুরু হচ্ছে বিজিবি ও বিএসএফ-এর মহাপরিচালক পর্যায়ের ৪ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী সীমান্ত সম্মেলন। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই দুই দেশের প্রথম সীমান্ত সম্মেলন, যেখানে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ শত শত মানুষকে সুনির্দিষ্ট কোনো কূটনৈতিক প্রক্রিয়া বা নাগরিকত্ব যাচাই ছাড়াই বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ নিয়ে বিএসএফ-এর ওপর কড়া চাপ সৃষ্টি করবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবি সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবারের সম্মেলনে তাদের মূল এজেন্ডাই থাকবে সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং এই অবৈধ পুশ-ইন ইস্যু, যেখানে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ বিএসএফ-এর সামনে উপস্থাপন করে কড়া প্রতিবাদ জানানো হবে। তথ্যে জানা যায়, মাত্র চার দিনে (৩ থেকে ৬ জুন) বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে দুই শতাধিক মানুষকে পুশ-ইনের চেষ্টা বিজিবি সফলভাবে প্রতিহত করেছে; এছাড়া বিগত এক বছরে অন্তত দুই হাজারেরও বেশি মানুষকে এভাবে পুশ-ইন করার অভিযোগ রয়েছে, যাদের মধ্যে কিছু ভারতীয় নাগরিক ও রোহিঙ্গাও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে এদের বাংলাদেশি দাবি করা হলেও বাংলাদেশের স্পষ্ট অবস্থান—যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকেই গ্রহণ করা হবে না। সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল এবং বিএসএফ মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ভারতের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন।

