ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিয়াজ মুহাম্মদ স্টেডিয়াম মার্কেটের দোকান ভাড়া ও জামানত বাড়ানোকে কেন্দ্র করে জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও দোকান মালিকদের বিরোধ গড়িয়েছে হাইকোর্ট পর্যন্ত। এরপর আদালতের আদেশের বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানাতে যাওয়ার পরই দোকান বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার ১৪ সেপ্টেম্বরের চিঠিতে বলা হয়, স্টেডিয়াম মার্কেটের দোকানের মাসিক ভাড়া ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা করা হয়েছে, যা জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর। একই সঙ্গে আগে দেওয়া ২ লাখ ২৫ হাজার টাকার জামানতের সঙ্গে আরও ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নিয়ে মোট ৫ লাখ টাকা জামানত করার কথা জানানো হয়। ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বকেয়া ভাড়া পরিশোধ করে চুক্তি নবায়নের জন্যও বলা হয়।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জাকিয়া সুলতানা ও নাজিম উদ্দিন আহমেদসহ বরাদ্দকৃত সকল দোকান মালিকরা হাইকোর্টে রিট করেন। রিটে ২৪ আগস্টের ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত এবং ১৪ সেপ্টেম্বরের পরবর্তী নির্দেশনা চ্যালেঞ্জ করা হয়।
নথিতে থাকা হাইকোর্টের ২১ সেপ্টেম্বরের আদেশ অনুযায়ী, আদালত ওই দুটি আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট দোকানগুলোর দখল ও অবস্থার বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
এরপর মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট দোকান মালিকরা হাইকোর্টের আদেশের বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানিয়ে তা উপস্থাপন করতে চেয়েছিলেন। তাদের অভিযোগ, বিষয়টি জানাতে যাওয়ার আগেই কোনো নোটিশ না দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ পাঠিয়ে স্টেডিয়াম মার্কেটের দোকানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এতে প্রশ্ন উঠেছে-হাইকোর্টের আদেশের বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানোর সুযোগ দেওয়ার আগেই কেন দোকান বন্ধ করা হলো? আদালতের স্থগিতাদেশ ও স্থিতাবস্থার নির্দেশনার পর এই পদক্ষেপের ভিত্তি কী এবং দোকান বন্ধের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কোনো নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কি না?।
এদিকে, জেলা ক্রীড়া সংস্থার ভাড়া ও জামানত বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে হাইকোর্টের আদেশ এবং এরপর জেলা প্রশাসনের দোকান বন্ধের পদক্ষেপ পুরো ঘটনাক্রম নিয়েই এখন তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।
ঘটনার বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন চন্দ্র দে জানান, এবিষয়ে জেলা প্রশাসক ও ক্রীয়া সংস্থা তাদের নোটিশ করেছে যতোটুকু আমি জানি এর বাইরে আমার কিছু জানা নেই। হাইকোর্টের আদেশের বিষয়ে অফিসিয়াল কোনো চিঠি পাইনি।

