এক সময় ছোটপর্দার পরিচিত মুখ সিদ্দিকুর রহমান অভিনয় আর ব্যক্তিগত জীবনের ব্যস্ততায় ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ধীরে ধীরে রাজনীতির ময়দানেও সক্রিয় হন তিনি। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার জীবনে আসে এক বড় পরিবর্তন। বিভিন্ন ঘটনায় তার নাম জড়িয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর প্রায় ১১ মাস কারাগারে কাটাতে হয় এই অভিনেতাকে।
দীর্ঘ সেই বন্দিজীবনের অবসান ঘটে চলতি বছরের ১৮ মার্চ। তবে কারাগারের এই সময়টি তার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন সিদ্দিক। তার ভাষায়, এই সময়টিকে তিনি শুধু কষ্টের সময় হিসেবে দেখেননি, বরং আত্মশুদ্ধি ও পরিবর্তনের একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। একজন শিল্পী হিসেবে সময়টিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন এবং নিজের ভেতরে নতুন এক উপলব্ধির জন্ম দিয়েছেন।
কারাগারে থাকাকালীন তার জীবনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে ধর্মীয় চর্চায়। আগে নিয়মিত না থাকলেও জেলে গিয়ে তিনি কোরআন পাঠ ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। একাকিত্বের মধ্যে তিনি নিজের জীবন নিয়ে ভাবার সুযোগ পান, যা তাকে ভেতর থেকে বদলে দেয়। কারাগারের একটি বাক্য—‘রাখিব নিরাপদ দেখাবো আলোর পথ’—তার মনে গভীরভাবে দাগ কেটে যায় এবং সেই আলো খোঁজার পথেই তিনি এগিয়ে যান।
শুধু আত্মিক পরিবর্তনই নয়, সৃজনশীল কাজেও নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন সিদ্দিক। জেলে বসেই তিনি ১৫টি নাটক এবং ৩টি সিনেমার গল্প লিখেছেন। পাশাপাশি নিজের জীবন, কারাগারের অভিজ্ঞতা এবং পরিবর্তনের গল্প নিয়ে একটি বই লেখার কাজও শুরু করেছেন। এই সৃষ্টিশীলতা তার জীবনের নতুন অধ্যায়ের ভিত্তি তৈরি করছে।
তবে মুক্তির পরও সেই সময়ের প্রভাব পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি তিনি। মানসিক ও শারীরিকভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সময় লাগছে বলে জানিয়েছেন। বর্তমানে তিনি পরিবারকে সময় দিচ্ছেন এবং ধীরে ধীরে নিজের পুরোনো ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছেন।
সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই আবারও অভিনয়ে নিয়মিত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সিদ্দিকুর রহমান। কারাগারের অভিজ্ঞতা তাকে যেমন বদলে দিয়েছে, তেমনি নতুন করে জীবন ও কাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিও তৈরি করেছে—যা ভবিষ্যতে তার পথচলাকে ভিন্ন মাত্রা দিতে পারে।

