ওয়ান নিউজ ডেস্ক: ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। যদিও ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন, তবুও দুই দেশের আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।
বুধবার (১৩ মে) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভ্যান্স বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই সমাধানের পথ খুঁজতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে সময়সীমা ও শর্ত নির্ধারণ করেছেন, তার ভেতরে বাস্তব অগ্রগতি কতটা সম্ভব হবে সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো—ইরান যেন কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে। এ বিষয়টিকে ঘিরেই ভবিষ্যৎ যেকোনো সমঝোতা নির্ভর করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, ইরানও নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার বার্তা দিয়েছে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ বলেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত এবং এ বিষয়ে আর কোনো বিতর্ক নেই। একইসঙ্গে তিনি জানান, ইরান ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে গুরুত্ব দিয়েই কৌশল নির্ধারণ করবে।
এদিকে, ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজিম ঘারিবাবাদি নতুন কিছু শর্ত তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নেয় এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে, তাহলে তেহরানও হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে প্রস্তুত থাকবে। পাশাপাশি ইরানের আটকে থাকা অর্থ ফেরত ও যুদ্ধ বন্ধের বিষয়েও দাবি জানিয়েছে দেশটি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি শর্ত ও কূটনৈতিক চাপের মধ্যেও দুই দেশ এখনো আলোচনার দরজা খোলা রেখেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা কমাতে আগামী কয়েকদিনের কূটনৈতিক অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

