ফারাক্কার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে আজ ঐতিহাসিক লংমার্চ দিবস

ফারাক্কার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে আজ ঐতিহাসিক লংমার্চ দিবস

মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে গণঅধিকার আন্দোলনের স্মরণে নানা কর্মসূচি

ওয়ান নিউজ ডেস্ক:
আজ ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস। ১৯৭৬ সালের এই দিনে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় গণআন্দোলনের সূচনা হয়েছিল।

দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনা সভা, স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে।

ঐতিহাসিক সেই আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজারো মানুষ রাজশাহীতে জড়ো হয়েছিলেন। পরে বিশাল মিছিল নিয়ে তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট অভিমুখে যাত্রা করেন। মূল দাবি ছিল—গঙ্গার পানির ন্যায্য অংশ নিশ্চিত করা এবং ফারাক্কা বাঁধের নেতিবাচক প্রভাবের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলা।

বিশ্লেষকদের মতে, ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের পর থেকে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব পড়ে। অনেক নদী শুকিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নাব্য সংকটও প্রকট আকার ধারণ করে।

১৯৭৫ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মনোহরপুর এলাকায় গঙ্গার ওপর ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এর ফলে পদ্মা নদীতে পানির প্রবাহ কমে যায় বলে অভিযোগ করে আসছে বাংলাদেশ।

পরবর্তীতে দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টন চুক্তি হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ এখনও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ পানি পায় না। ফলে উত্তরাঞ্চলের অনেক এলাকায় খরা, নদী ভাঙন ও পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার সমস্যা রয়ে গেছে।

ফারাক্কা লংমার্চ দিবসকে ঘিরে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শুধু একটি আন্দোলনের স্মৃতি নয়; বরং দেশের ন্যায্য অধিকার আদায়ের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। আজও নদী ও পানিসম্পদ রক্ষার প্রশ্নে দিনটির তাৎপর্য সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *