ওয়ান নিউজ ডেস্ক:
দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা পুনরায় সচল করা, নতুন বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার বড় আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে এসেছে এবং বিভিন্ন শিল্পখাত চাপে রয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, স্টিল, সিরামিক ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, অর্থপাচার এবং ব্যাংক খাতে আস্থার সংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
গভর্নর জানান, ঘোষিত তহবিলের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা হবে। আর বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন সহায়তা প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়া হবে।
এই তহবিল থেকে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতে বড় অঙ্কের সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, কৃষি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং উত্তরাঞ্চলকে কৃষি হাব হিসেবে গড়ে তুলতেও বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া স্টার্টআপ, গ্রিন বিনিয়োগ, চামড়া শিল্প, বিদেশে কর্মসংস্থান, গ্রামীণ অর্থনীতি ও বেকার যুবকদের জন্যও আলাদা সহায়তা তহবিল গঠন করা হয়েছে। সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য বরাদ্দ অর্থ অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সুদের হার প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ৪ শতাংশ সুদে অর্থ দেবে এবং ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ মার্জিন যোগ করতে পারবে। ফলে বড় উদ্যোক্তারা ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে ক্ষুদ্র ঋণের ক্ষেত্রে পরিচালন ব্যয়ের কারণে সুদের হার কিছুটা বেশি হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিল্প উৎপাদন বাড়বে, রপ্তানি ও রেমিট্যান্সে গতি আসবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে।

