আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে আবারও যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরানের সামরিক স্থাপনায় নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মার্কিন বাহিনীর ওপর সম্ভাব্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রুখতেই এই অতর্কিত অভিযান চালানো হয়েছে। চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টা এবং চরম আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যেই এই হামলা বিশ্বজুড়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা স্থানীয় সময় বুধবার (২৭ মে) এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালি এলাকায় নৌ চলাচলের ঝুঁকি বিবেচনায় এই বিশেষ সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযানের সময় মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী বেশ কয়েকটি ইরানি ড্রোনও আকাশেই ধ্বংস বা ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ইরানের ঠিক কোন কোন সামরিক ঘাঁটিকে টার্গেট করা হয়েছে, সে বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি। অন্যদিকে, এই হামলার বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক তেল সরবরাহের একটি বিশাল অংশ হরমুজ প্রণালির এই কৌশলগত নৌপথ দিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে এই অঞ্চলে যেকোনো ধরনের সামরিক সংঘাত বা উত্তেজনা সরাসরি আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করে। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর থেকে এই অঞ্চলে সংঘাতের পরিধি আরও বাড়ে। গত তিন মাস ধরে চলমান এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বিপুল প্রাণহানির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
এদিকে, এই নতুন হামলার খবরটি সামনে আসার ঠিক আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের একটি দাবি সরাসরি নাকচ করে দেন। ইরানি গণমাধ্যমের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান ও ওমান যৌথভাবে হরমুজ প্রণালির নৌপথ তদারকি করবে। ট্রাম্প এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, হরমুজ প্রণালি সবসময় সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তাঁর এই কড়া হুঁশিয়ারির পরপরই মার্কিন হামলার খবরটি প্রকাশ্যে আসে।
এর আগে গত সোমবারও (২৫ মে) ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক হামলার দাবি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যা দুই দেশের মধ্যকার নাজুক যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগ তুলেছিল তেহরান। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে মাইন স্থাপনকারী নৌযান ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো মার্কিন সেনাদের জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে ওঠায় তারা এই অ্যাকশনে যেতে বাধ্য হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই ধারাবাহিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার ওপর নতুন করে বড় ধাক্কা দিতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

