কারাগারে বিষণ্ণতায় সাবেক হেভিওয়েটদের টানা ৪র্থ ঈদ: মেন্যুতে থাকছে পোলাও-রোস্ট

কারাগারে বিষণ্ণতায় সাবেক হেভিওয়েটদের টানা ৪র্থ ঈদ: মেন্যুতে থাকছে পোলাও-রোস্ট

ওয়ান নিউজ ডেস্ক

ঢাকা: ক্ষমতার জৌলুস ও রাজনৈতিক ব্যস্ততা হারিয়ে কারাগারের চার দেয়ালের ভেতরে টানা চতুর্থ ঈদ কাটছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের একাধিক প্রভাবশালী মন্ত্রী, এমপি ও শীর্ষ নেতাদের। সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমু, হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, ডা. দীপু মনি এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব এখন বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। অতীতে ঈদ মানেই যেখানে ছিল নেতাকর্মীদের ভিড়, ঈদগাহে রাজসিক প্রটোকল আর গণভবনের উৎসবের আমেজ—সেখানে এবারের ঈদে গণহত্যার বিভিন্ন মামলার বিচার আর আইনি জটিলতা থেকে মুক্তির চিন্তায় কাটছে তাঁদের সময়। পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকার এই দুঃখ ঈদের আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছে সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলক, সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম কিংবা সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানদের জন্য।

কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঈদের এই বিশেষ দিনে বন্দিদের জন্য পোলাও, মুরগির রোস্ট ও মাংসসহ বিশেষ খাবারের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) জান্নাত-উল ফরহাদ জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ঈদের দিন সকালে বন্দিদের নাশতায় দেওয়া হবে সেমাই বা পায়েস এবং মুড়ি। দুপুরের প্রধান মেন্যুতে থাকছে পোলাও, গরুর মাংস (অন্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য খাসির মাংস), আস্ত মুরগির রোস্ট, মিষ্টি, ডিম, কোল্ড ড্রিংকস এবং পান-সুপারি। এছাড়া রাতের খাবারে দেওয়া হবে সাদা ভাত, রুই মাছ ভাজা ও আলুর দম। দেশের সব কারাগারের সাধারণ ও ভিআইপি বন্দিদের জন্য এই একই মেন্যু কার্যকর থাকবে।

কারা কর্মকর্তা আরও জানান, বন্দিদের মানসিক প্রশান্তির জন্য প্রতিটি কারাগারে অভ্যন্তরীণ বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকছে। পাশাপাশি ঈদের দিন এবং এর পরবর্তী দুই দিন বন্দিরা স্বজনদের নিয়ে আসা বাইরের খাবারও খাওয়ার সুযোগ পাবেন।

কারা প্রশাসনের হিসাব মতে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কারাগারে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও উচ্চপদস্থ আমলাসহ প্রায় দুই শতাধিক ‘ভিআইপি’ আসামি আটক রয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৬১ জন প্রথম শ্রেণির বন্দি বা ‘ডিভিশন’ সুবিধা পাচ্ছেন। এর মধ্যে নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ৬০ জন হাইপ্রোফাইল বন্দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তারা ঈদের দিন সকালে একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায়ের ও কুশল বিনিময়ের সুযোগ পাবেন। এছাড়া নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট নম্বরে পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলা এবং স্বজনদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের বিশেষ ব্যবস্থাও রেখেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *