ওয়ান নিউজ ডেস্ক:
ইরানের সঙ্গে একটি খসড়া শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের নিয়ে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে বহুল আলোচিত বৈঠক শেষ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরও কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ঘোষণা আসেনি। আলোচকদের তৈরি করা খসড়া সমঝোতা স্মারকটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে অনুমোদন না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য শান্তিচুক্তিটি এখনো গভীর অনিশ্চয়তার দোলাচলেই রয়ে গেছে।
বৈঠক শেষে হোয়াইট হাউসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেবল আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা করে এবং তাঁর বেঁধে দেওয়া ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত শর্ত পূরণ হলেই এই চুক্তিতে সই করবেন। ওয়াশিংটনের মূল শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরানকে স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ বন্ধ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ কোনো ধরনের শুল্ক ছাড়াই উভয়মুখী বাণিজ্যিক নৌযান চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত রাখতে হবে। এছাড়া উক্ত নৌপথে পাতা সব সামুদ্রিক মাইন দ্রুত অপসারণ ও ধ্বংস করার ওপরও জোর দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
অবশ্য হোয়াইট হাউস কর্মকর্তারা এখনো এই চুক্তি নিয়ে আশাবাদী। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, খসড়া সমঝোতা স্মারকটি এখনো চূড়ান্ত বা নিশ্চিত করা হয়নি। তাছাড়া ইরানের জব্দকৃত তহবিল ফেরত, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অতি-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত স্থানান্তরের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে দুই দেশের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতবিরোধ রয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পাল্টা জবাবে ইরানও মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরাইলে ড্রোন-মিসাইল হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ করে দেয়, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে দফায় দফায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে, যা চলমান কূটনৈতিক আলোচনাকে আরও নাজুক করে তুলেছে।

