ওয়ান নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র যানজট নিরসনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দিকে এগোচ্ছে সরকার এবং এর অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে ঢাকার ৭৬টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এআইভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ও ক্যামেরা চালুর একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি). গত সোমবার (১৫ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন’ বিষয়ক একটি উচ্চپر্যায়ের সভায় এই নতুন পরিকল্পনাটি উপস্থাপন করা হয়, যেখানে ডিএমপির এই বিশেষ উদ্যোগের সাথে সমন্বয় করে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন কার্যক্রমে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সরাসরি অংশ নেবে এবং ঢাকার প্রধান প্রধান সড়কগুলোর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেটেড করার লক্ষ্য নিয়ে এই কাজ শুরু হচ্ছে. প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে নতুন এই আধুনিক প্রযুক্তি সচল করতে সরকারের অতিরিক্ত কোনো বিশেষ তহবিল বা বাড়তি বরাদ্দের প্রয়োজন হবে না এবং পুলিশের নিজস্ব কল্যাণ ও প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল থেকেই এই প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব. এর আগে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর জাহাঙ্গীর গেট, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর এবং হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হয়েছিল, যেখানে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে সিগন্যাল বাতিগুলো তৈরি করে দিয়েছিল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং এই সিগন্যালগুলো মূলত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হলেও, ভিভিআইপি মুভমেন্ট বা জরুরি প্রয়োজনে ম্যানুয়ালি (হাতে) নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগও রাখা হয়েছে. পুরো কার্যক্রমটি সমন্বয় করছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ, যারা পরীক্ষামূলক প্রকল্পের অংশ হিসেবে চলতি বছরের Courant ৭ মে থেকে ওই নির্দিষ্ট ট্রাফিক পয়েন্টগুলোতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে এবং এই এআইভিত্তিক ক্যামেরার সাথে একটি বিশেষ সফটওয়্যার সংযোজন করা হয়েছে, যা সড়কে চলাচলকারী গাড়িগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করবে এবং ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ লঙ্ঘনের যেকোনো ঘটনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নিতে সাহায্য করবে. তবে ঢাকায় ট্রাফিক সিগন্যাল আধুনিকায়নের ইতিহাস খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়; ডিটিসিএ-র তথ্য অনুযায়ী ১৯৬০-এর দশকে রাজধানীতে প্রথম ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করা হলেও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তা অকেজো হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ঋণে ৬৮টি স্থানে, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে আরও ৯১টি ইন্টারсеকশনে এবং ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে জাইকার (JICA) অর্থায়নে ৪টি মোড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সিগন্যাল বসালেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সবগুলোই একপর্যায়ে অকার্যকর হয়ে পড়ে, যার ফলে অতীতের এই সব ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে নতুন এই এআই প্রযুক্তি ঢাকাবাসীকে কতটা যানজটমুক্ত সড়ক উপহার দিতে পারে এখন সেটিই দেখার বিষয়.

