দলের নাম ও প্রতীক দুটোই হারালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

দলের নাম ও প্রতীক দুটোই হারালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

দলের নাম ও প্রতীক সব হারালেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভারতের নির্বাচন কমিশন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং এর ঐতিহ্যবাহী ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক স্থগিত করার একদিন পর দলটির দুই প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষকে আলাদা অন্তর্বর্তীকালীন নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ করেছে। এর ফলে প্রায় তিন দশক ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক পরিচয় আগামী ৬ অক্টোবরের পশ্চিমবঙ্গ উপনির্বাচনের ব্যালট থেকে সাময়িকভাবে বাদ পড়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পক্ষকে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিদ্রোহী পক্ষকে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক বরাদ্দ করেছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশন নির্দিষ্ট করে জানিয়েছে, এই প্রতীকগুলো অস্থায়ী এবং আসন্ন উপনির্বাচনের জন্য প্রযোজ্য হবে, কারণ পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলটির ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ এখনও অব্যাহত রয়েছে। বর্তমান বিদ্যমান আইনের অধীনে বিষয়টি নিষ্পত্তির প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

মে মাসে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের আইনসভা দলের মধ্যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহ শুরু হয়, যা পরে সংসদেও ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে দলীয় নাম ও প্রতীকে গড়ায়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই কমিশনের এই অন্তর্বর্তী আদেশ আসে। দুই গ্রুপকেই শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে তিনটি পছন্দের নাম এবং তিনটি মুক্ত প্রতীক জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে কমিশন তাদের উপনির্বাচনের জন্য এই অন্তর্বর্তী পরিচয়গুলো বরাদ্দ করে।

নির্বাচন কমিশনের দলটির নাম ও প্রতীক স্থগিত করার আদেশকে ‘অবৈধ’ ও ‘আইনের পরিপন্থী’ বলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির। টিএমসি সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদেশটি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘আমরা এটি গ্রহণ করছি না’। আদেশে অনেক আইনি দুর্বলতা রয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আদেশে তথ্য সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি। তবে এই ব্যবস্থাকে সাময়িকভাবে মেনে নিতে হতে পারে বলেও স্বীকার করেন তিনি।

অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ নির্বাচন কমিশনের এই স্থগিতাদেশকে স্বাগত জানিয়েছে, যদিও তারা ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীকটিই চেয়েছিল। প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের নেতা, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার চিফ হুইপ ও টিএমসি বিধায়ক আখরুজ্জামান আনসারি বলেন, আমরা ইসির আদেশ মেনে নিচ্ছি। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, আমরা পুরানো প্রতীক চেয়েছিলাম’। তবে চূড়ান্ত রায়ের পর তাদের পক্ষই দলের ‘অফিসিয়াল এবং আসল নাম ও প্রতীক’ পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আপাতত ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে এবং ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে উপনির্বাচনে অংশ নেবে এই বিদ্রোহী পক্ষ।

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলটির সাংগঠনিক ও আইন প্রণয়ন কাঠামোতে ক্ষমতার লড়াই শুরু হয়। জুনে ৫৯ জন বিদ্রোহী বিধায়ক মমতার শিবিরের মনোনীত প্রার্থীর পরিবর্তে বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেন এবং স্পিকারের স্বীকৃতি আদায় করেন। দলটির ২৮ বছরের ইতিহাসে এটিই প্রথম ভাঙন।

প্রসঙ্গত ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আসার পর গঠিত তৃণমূলের রাজনৈতিক যাত্রার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের এই হাত দিয়ে আঁকা ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক। গত ২৮ বছরে তৃণমূল যখন পশ্চিমবঙ্গে একটি প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে, তখন এই প্রতীকটি দলটির তৃণমূল স্তরের পরিচয়ের শক্তিশালী অভিব্যক্তি হয়ে উঠেছিল এবং ব্যালট পেপার, পতাকা ও প্রচারসামগ্রীতে এটি প্রধানভাবে স্থান পেয়েছিল। 

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এনডিটিভি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *