মেহেরপুরের দুই সীমান্তে ৮ লাখ টাকার মাদক উদ্ধার

মেহেরপুরের দুই সীমান্তে ৮ লাখ টাকার মাদক উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মেহেরপুরের সীমান্তে একদিকে চলছে পুশইন-পুশব্যাক ঘিরে উত্তেজনা, অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী পৃথক দুটি সীমান্তে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হচ্ছে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকদ্রব্য। পুশইন ঘটনার মধ্যেই এবার জেলার গাংনী উপজেলার শেওড়াতলা ও কাজিপুর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৮ লাখ ১০ হাজার ৯০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় ফেন্সিডিল, মদ ও বিপুল পরিমাণ ওষুধজাতীয় মাদক উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

রোববার (১১ অক্টোবর) ভোররাতে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে এসব মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে।

বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাংনী উপজেলার কাজিপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার কাজিপুর হাজীপাড়ায় পৃথক অভিযান চালায় বিজিবির আরেকটি টহল দল। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ৪৯ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়। এসব মদের আনুমানিক বাজার মূল্য ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা।

একই দিন রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গাংনী উপজেলার শেওড়াতলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার শেওড়াতলা মাঠে অভিযান পরিচালনা করে বিজিবির একটি টহল দল। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ২১ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল, ১ হাজার পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট এবং ১ হাজার ৪৩০ পিস সাইপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা এসব মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজার মূল্য ৭ লাখ ৩৭ হাজার ৪০০ টাকা।

দুটি অভিযানে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় ২১ বোতল ফেন্সিডিল, ৪৯ বোতল মদ, ১ হাজার পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট ও ১ হাজার ৪৩০ পিস সাইপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজার মূল্য ৮ লাখ ১০ হাজার ৯০০ টাকা।

সীমান্তে মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করার পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)। সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

বিজিবির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান প্রতিরোধে বাহিনীটি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। সীমান্তে নিরাপত্তা বজায় রাখা ও মাদক চোরাচালান নির্মূলে এ ধরনের অভিযান এবং কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, ‘সীমান্তে মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান প্রতিরোধে ৪৭ বিজিবি সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং মাদক চোরাচালান নির্মূলে আমাদের নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে বিজিবির জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর থাকবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *