পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
আদালতের স্থিতিবস্থা জারীর নির্দেশ থাকার পরেও জমির ফসল কেটে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে এমন অভিযোগ উঠেছে। জমিতে গাছ রোপন, মাটি কাটা, মাটি ভরাট, স্থাপনা নির্মানসহ সকল ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য আদালত এ আদেশ দেন।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ সহকারি জজ আদালতের বিচারক বিশৃঙ্খলা এড়াতে জমিতে স্থিতিবস্থা জারি করেন। জমির শুনানী না হওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়।
আপোষসূত্রে প্রাপ্ত জমি নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা লইয়া বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য রামগঞ্জ বিলাসীর বালাখুড়ি বাজারের মৃত তোজাম্মেল হোসেনের ছেলে রেজাউল করিম, রবিউল ইসলাম, মাহফুজা বেগম, মৃত তোজাম্মেল হোসেনের স্ত্রী রওশন আক্তার বাদী হয়ে টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট অভিযোগ দেন।
এর আগেও ২০ নভেম্বর রেজাউল করিমের অভিযোগের ভিত্তিতে এস আই নাসিমের মধ্যস্থতায় থানায় বসার কথা ছিল। কিন্তু মিথ্যা অভিযোগে আমাকে জেলহাজতে নেয়া হয় ১৯ নভেম্বর। এরপর গত ২২ নভেম্বর তারিখে রেজাউল করিম তার লোকজন দিয়ে ধান কেটে নেন। পরে আমার স্ত্রী দেবীগঞ্জ থানায় ও জরুরি সেবায় ফোন দিলে পুলিশ এসে কিছু ধান উদ্ধার করে। সে ধান দেবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি গনি বসুনিয়ার নিকট জিম্মা রাখে ও সিজার লিস্ট করে। তখন আমার লোকজনের স্বাক্ষরও নেয়া হয়নি সিজার লিস্টে। এখনো সে ধান বুঝিয়ে দেয়নি। টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের চতুরাডাংগী এলাকার মৃত আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী ফজিলাতুন নেছা, রোস্তম আলী, সোহরাব হোসেন, জুয়েল রানা, নুহ আলমকে বিবাদি করে এ অভিযোগ দেন। ভুয়া অভিযোগ দেয়ার কারনে পরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিষয়টি নিয়ে আর শুনানী করেননি। ২০১৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী এ অভিযোগ দেয়া হয়।
ভুক্তভোগী জুয়েল রানা জানান, দলিল বাতিলের জন্য ও জমিতে স্থিতিবস্থা জারি করার জন্য আদালতে মামলা দায়ের করি। সে মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। আমার জমি, আমার দখলে রয়েছে। আমি জমিতে শ্রমিক দিয়ে রোপা চাষ করি। সে জমির ধান আমি কাটতে পারছিনা অথচ রেজাউল করিম অবৈধ ভাবে জমির ধান কেটে নেয়ার চেষ্টা করছে। যারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট অভিযোগ করেছেন তারা আমাদের কোন ওয়ারিশ না। আমাদের জমি অবৈধ ভাবে দখল করার জন্যই মিথ্যা ভুয়া অভিযোগ দিয়েছেন। দেবীগঞ্জ থানায় আমার নামে মিথ্যা অভিযোগও দিয়েছে। আদালতে জমির বিষয় নিয়ে একাধিক মামলা চলছে।
জুয়েল রানা বলেন, ৮৭৭ নম্বর দাগের ৪ একর ৩৮ শতক জমির মধ্যে ১ একর দাবি করতেছে। ৮৬৪ নম্বর দাগের ১ একর ৭০ শতক। তার মধ্যে ৬৬ শতক জমি জুয়েল রানার। কিন্তু রেজাউল করিম ৫০ শতক জমি নিজের বলে দাবি করছে। কিন্তু তার কোন বৈধ কাগজপত্র নাই। ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে আমাকে।
তিনি আরও বলেন, রেজাউল করিম দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে হয়রানি করছে।
দেবীগঞ্জ থানার সাব ইন্সপেক্টর ইমরান হোসেন বলেন, ওসি স্যার দুই পক্ষের লোকজনের সাথে কথা বলার জন্য ডেকেছে।
স্থানীয় লোকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বাসিন্ধা জানান, রেজাউল করিম হেড মাষ্টার হলেও তিনি নিয়ম মাফিক বিদ্যালয়ে আসেন না। যদিও আসেন স্বাক্ষর করে চলে যান।
অভিযুক্ত রেজাউল করিম জানান, আমার ৩২ বছর থেকে জমির দখলে আছে। সে জমি তহসিলদার পুনরায় জুয়েল রানার নামে দখল দেখান। জমি উদ্ধারের জন্য দেবীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দেই।
দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি সেলিম মালিক জানান, জমির বিশৃঙ্খলা এড়াতে আমরা উভয় পক্ষের সাথে কথা বলার জন্য ডেকেছি। বিষয়টি নিয়ে থানায় বসে কথা বলবো। জমির বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

