ওয়ান নিউজ ডেস্ক
দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা বিরল ‘অ্যালবিনো’ প্রজাতির সেই আলোচিত মহিষটির কোরবানি স্থগিত করেছে সরকার। ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামে পরিচিতি পাওয়া ব্যতিক্রমী চেহারার এই প্রাণীটিকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং সাধারণ মানুষের প্রদর্শনের জন্য মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, ঈদের আগের দিন বুধবার বিকেলে ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিনজিরা এলাকা থেকে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় মহিষটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। চার বছর বয়সী এই অ্যালবিনো মহিষটির ওজন প্রায় ৬৮০ কেজি। এর গোলাপি রঙের ত্বক এবং মাথার ওপর ঢেউখেলানো সোনালি লোমের কারণে দেখতে অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো মনে হওয়ায় এর এমন নামকরণ করা হয়। নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ার ‘রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে’ জন্ম নেওয়া এই মহিষটির খবর দেশীয় গণমাধ্যমে আসার পর তা রয়টার্স, এএফপি, দ্য টেলিগ্রাফ ও দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেরও নজর কাড়ে।
নারায়ণগঞ্জের খামার থেকে মহিষটি কিনেছিলেন কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা মনিরুজ্জামান। গত সোমবার লালগালিচা সংবর্ধনা ও রাজকীয় সাজে সেটিকে কেরানীগঞ্জের বাড়িতে আনা হয়েছিল। তবে সরকারের পক্ষ থেকে কোরবানি না করার নির্দেশনা আসায় মনিরুজ্জামান নিজেই মহিষটিকে থানায় পৌঁছে দেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক সাংবাদিকদের জানান, বিরল জাতের এই প্রাণীটির প্রতি মানুষের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হওয়ায় সরকার এটিকে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আপাতত ব্যক্তিগত উদ্যোগে পশুটি কিনে নিয়েছেন এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এটি সুরক্ষার জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর চিকিৎসক মো. আতিকুর রহমান জানান, মহিষটিকে চিড়িয়াখানায় বরণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সুরক্ষার স্বার্থে শুরুতে সেটিকে বড় একটি শেডে দুই সপ্তাহের জন্য কোয়ারেন্টিনে রেখে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এর ব্যতিক্রমী রঙের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, একই বংশের মধ্যে প্রজনন (ইন-ব্রিডিং) হলে এবং ত্বকে মেলানিনের পরিমাণ কমে গেলে মহিষ কালো না হয়ে এমন সাদা বা গোলাপি রঙের হয়। প্রতি ১০ হাজার মহিষের মধ্যে মাত্র একটি এমন বিরল বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মাতে পারে। এদিকে ক্রেতা মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, সরকার তাঁকে মহিষের ন্যায্য মূল্য পরিশোধ অথবা কোরবানির জন্য বিকল্প পশু দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

