নাসিরনগরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ

নাসিরনগরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হরিণবেড় শাহজাহান উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুছ ছালামের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে।

এসব অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ,জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবক।

প্রায় ৪২ বছর পুরোনো এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ৯ শতাধিক শিক্ষার্থী এবং ১৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। চলতি বছরের ৫ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি জমা দেওয়ার পরও শুধুমাত্র অভিভাবকদের সঙ্গে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে চারজন শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেননি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুছ ছালাম। এতে ওই শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, আব্দুছ ছালামের কাছে প্রাইভেট না পড়লে অনেক শিক্ষার্থীর নম্বর কমিয়ে অকৃতকার্য দেখানো হয়। সাব্বির হোসেন নামের এক শিক্ষার্থীর

অভিভাবক জানান, ২০২৪ সালে এসএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন কার্ডে ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষার্থী ও তার মায়ের নাম ভুলভাবে অন্তর্ভুক্ত করায় সাব্বির পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। এছাড়াও শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পক্ষ থেকে আরও নানা অভিযোগ ওঠে। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দাবি, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সকালে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে অধিকাংশ সময় বিদ্যালয়ের বাইরে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন। ফলে তাঁর গণিত ক্লাস নিয়মিত হয় না এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে জানান, ভর্তি ফি নেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে কোনো রশিদ দেওয়া হয়নি। এছাড়াও সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে বিভিন্ন সময় রশিদ ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

শিক্ষকদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ করায় তাদের নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। তাদের দাবি, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুছ ছালামের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার বিদ্যালয়ে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা নাছরিন বলেন, “ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুছ ছালামের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। বাকি অভিযোগগুলো আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ শুনেছি। বিষয়গুলো তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো। বিদ্যালয় খোলার সাথে সাথে উই ওইল টেক এ্যাকশান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *