পানিসংকট দূর করতে ৩৫ হাজার কোটি টাকার মেগা উদ্যোগ সরকারের
ওয়ান নিউজ ডেস্ক:
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী, কৃষি ও পানিসম্পদ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পদ্মা নদীর ওপর ব্যারাজ নির্মাণের বিশাল প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া এই প্রকল্প আগামী সাত বছরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বুধবার রাজধানীর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ‘পদ্মা ব্যারাজ’ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি দেশের অন্যতম বড় পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প হতে যাচ্ছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় নির্মিত হবে প্রায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ব্যারাজ। এতে থাকবে একাধিক স্পিলওয়ে, আন্ডার স্লুইস ও ফিশ পাস সুবিধা, যার মাধ্যমে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণ করা হবে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গড়াই-মধুমতী, হিসনা-মাথাভাঙ্গা, বড়াল, চন্দনা-বারাশিয়া ও ইছামতীসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি মৃতপ্রায় নদীতে আবারও পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে দীর্ঘদিন ধরে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা ও আশপাশের নদীগুলোতে পানির প্রবাহ কমে গেছে। এতে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, নৌ চলাচল এবং জীববৈচিত্র্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অনেক এলাকায় লবণাক্ততাও বেড়েছে।
সরকার আশা করছে, ব্যারাজের মাধ্যমে সংরক্ষিত পানি ব্যবহার করে প্রায় ২৯ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে। এতে ধান ও মাছ উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। একই সঙ্গে সুন্দরবন অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পের আওতায় নদী পুনঃখনন, ড্রেজিং এবং পানি বণ্টনের জন্য বিশেষ অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। ভবিষ্যতে ব্যারাজ ঘিরে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও স্যাটেলাইট শহর গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
একনেক সভা শেষে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, এই প্রকল্প দেশের দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষি উন্নয়নের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। তিনি জানান, প্রায় সাত কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এর সুফল পাবেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা গেলে পদ্মা ব্যারাজ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি ও পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

