যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্কে নতুন কৌশল: স্থায়ী চুক্তির বদলে অস্থায়ী সমঝোতার পথে

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্কে নতুন কৌশল: স্থায়ী চুক্তির বদলে অস্থায়ী সমঝোতার পথে

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মতবিরোধে অচলাবস্থা, স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে জোর দিচ্ছে দুই দেশ


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ পরমাণু ইস্যুতে এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি। এই প্রেক্ষাপটে দুই দেশই স্থায়ী শান্তিচুক্তির উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে সরে এসে সীমিত সময়ের জন্য কার্যকর একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আলোচনায় দেখা গেছে, উভয় পক্ষই এমন একটি চুক্তিতে আগ্রহী যা তাৎক্ষণিক উত্তেজনা কমাতে সহায়তা করবে এবং ভবিষ্যতে বড় পরিসরের আলোচনার পথ খোলা রাখবে। তবে পরমাণু কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার নিয়ে মতপার্থক্য এতটাই গভীর যে, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি এখনো অধরাই রয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অস্থায়ী সমঝোতা একটি বাস্তবসম্মত কৌশল। এর মাধ্যমে দুই দেশ সরাসরি সংঘাত এড়াতে পারে এবং আলোচনার ধারাবাহিকতাও বজায় রাখা সম্ভব হয়।

ইরানি সূত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তার ইউরেনিয়ামের মজুত পুরোপুরি ত্যাগ করুক এবং প্রায় ২০ বছরের জন্য সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ রাখুক। তবে ইরান এই প্রস্তাবে পুরোপুরি রাজি নয়। তারা মজুত ত্যাগ করতে অনাগ্রহী হলেও সীমিত সময়—৩ থেকে ৫ বছরের জন্য—সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখতে সম্মত হতে পারে।

বর্তমানে ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যার বিশুদ্ধতা প্রায় ৬০ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশুদ্ধতার মাত্রা যদি ৯০ শতাংশে উন্নীত করা হয়, তাহলে তা পরমাণু অস্ত্র তৈরির উপযোগী হয়ে উঠতে পারে।

এ বিষয়ে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেওয়া মার্কিন প্রতিনিধি দলের এক সদস্য আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা Reuters-কে জানিয়েছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচিই এখনো চুক্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *