মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে সামরিক তৎপরতা, আগামী সপ্তাহ নিয়েই শঙ্কা
ওয়ান নিউজ ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আগামী সপ্তাহেই সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের বরাত দিয়ে জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পরিবেশ ভেঙে যাওয়ার পর অঞ্চলটিতে সবচেয়ে বড় সামরিক প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকজন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, উভয় দেশ যৌথভাবে বিকল্প সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কংগ্রেসে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ‘বর্ধিত সামরিক অভিযানের’ প্রস্তুত পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল পরিবর্তনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তেহরান একদিন চুক্তিতে সম্মতি দেয়, পরদিনই অবস্থান বদলে ফেলে। এতে ওয়াশিংটনের ধৈর্য ক্রমেই কমে আসছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রস্তাবিত আলোচনায় ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। ট্রাম্পের ভাষ্য, এই ইউরেনিয়াম ধ্বংসস্তূপে পড়ে থাকুক, সেটা তিনি চান না; বরং যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকাই নিরাপদ বলে মনে করেন।
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও পাল্টা কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই সতর্ক করে বলেছেন, কোনো ধরনের হামলা হলে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান উত্তেজনা কূটনৈতিক সমাধানের পথকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতির পর উভয় পক্ষের পারস্পরিক অবিশ্বাস নতুন করে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়ছে উদ্বেগ।

