ওয়ান নিউজ ডেস্ক: ‘দোষীদের শুধু ফাঁসির আদেশ দিলেই হবে না, সেই রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয় সেটিও রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে; তবেই আমার পরিবারসহ দেশের সব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো কিছুটা হলেও শান্তি পাবে’—আজ রোববার মিরপুরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায় শুনতে এসে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সামনে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে এই আকুতি জানান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ মিরাজুল ইসলাম মিরাজের বাবা আব্দুস সালাম। তিনি ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে, সরকার এমন কঠোর আইন করুক যেখানে আইনি কোনো দুর্বলতা বা ফাঁকফোকর থাকবে না, কারণ বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রিতায় পড়লে তিনি হয়তো তার ছেলে হত্যার বিচার অধরাই থেকে যাবে। যাত্রাবাড়ী এলাকায় সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ইতিপূর্বে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানালেও এখন পর্যন্ত মামলাগুলোর দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি বা চার্জশিট না হওয়াটা অত্যন্ত দুঃখজনক, অথচ তার ছেলের হত্যাকাণ্ডের স্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যসহ সব প্রমাণ তদন্ত সংস্থার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের বারঘড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং পরিবারের বড় সন্তান মিরাজ ছিলেন মূলত পুরো সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, যিনি অসুস্থ বাবার চিকিৎসা ও ছোট দুই ভাইয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতে ঢাকার দনিয়া মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়ার পাশাপাশি যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকায় একটি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের দোকানে কাজ করতেন। উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ী থানার সামনে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করার সময় ভেতর থেকে ছোঁড়া গুলিতে গুরুতর আহত হন মিরাজ এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ আগস্ট রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সংসারের প্রধান স্তম্ভকে হারিয়ে ঋণের সাগরে ডুবে যাওয়া এই অসহায় বাবা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সন্তানের মৃত্যুর পর তাদের একেকটি দিন যেন একেকটি বছরের মতো কাটছে, তাই তিনি কেবল ফাঁসির মৌখিক ঘোষণা নয়, বরং অপরাধীদের প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও তার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চান।

