আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষের দিকে, আর এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে পাকিস্তানও এ সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।
দুই দেশের মধ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা স্থানীয় সময় বুধবার গভীর রাতে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত এই মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে কোনো ইতিবাচক বার্তা দেননি, ফলে নতুন করে সংঘাত শুরুর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে আবার আলোচনার টেবিলে আনতে পাকিস্তান সক্রিয় কূটনৈতিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ প্রচেষ্টায় দৃশ্যমান অগ্রগতি আসেনি।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তারা এখনো যাত্রা শুরু করেনি।
এদিকে সম্ভাব্য আলোচনাকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের কারণে পাকিস্তান বর্তমানে একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত পাকিস্তান, অন্যদিকে ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলার সমালোচনাও করেছে দেশটি। আবার ইরানের কিছু পদক্ষেপের বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নিয়েছে ইসলামাবাদ।
সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক সহযোগিতাও এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকায়, এক পক্ষ আক্রান্ত হলে অন্য পক্ষও প্রতিক্রিয়া জানাবে—এমন অঙ্গীকার রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ব্যর্থ হলে আঞ্চলিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে পারে এবং সেই ক্ষেত্রে পাকিস্তান সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

