ডেস্ক রিপোর্ট:
কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে পশুর চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে শৃঙ্খলা আনতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। প্রতিবছর চামড়ার ন্যায্য দাম না পাওয়া, সংরক্ষণ সংকট ও বাজারে অনিয়ম ঠেকাতে এবার আগাম প্রস্তুতি এবং প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলন শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, চামড়া যাতে নষ্ট না হয় সে জন্য মাঠপর্যায়ে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মসজিদ ও মাদ্রাসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি সরকারিভাবে লবণ সরবরাহ, সচেতনতা কার্যক্রম এবং গণমাধ্যমে প্রচারণা জোরদার করা হবে।
তিনি বলেন, কুরবানির পরবর্তী সাতদিন চামড়া পরিবহণ নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে, যাতে স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ নিশ্চিত করা যায় এবং বাজারে অস্থিরতা কমে। এর মাধ্যমে চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।
একই সঙ্গে বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে আমদানি থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে, যাতে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, বস্ত্র ও পাট খাতের প্রায় ৫০টি বন্ধ ও রুগ্ণ কারখানা পর্যায়ক্রমে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে নতুন বিনিয়োগ আসবে, উৎপাদন বাড়বে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এক বছরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় সরকার কৌশলগত পণ্যের মজুত গড়ে তুলছে, যাতে সরবরাহ ব্যাহত হলেও দেশের বাজার স্থিতিশীল রাখা যায়। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সরকার মনে করছে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে চামড়া খাতসহ সামগ্রিক বাজার ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

