ওয়ান নিউজ ডেস্ক: পানিকে কখনোই যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয় উল্লেখ করে পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির প্রবাহ আটকানো, বাধাগ্রস্ত করা বা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার যেকোনো ভারতীয় প্রচেষ্টাকে ‘যুদ্ধের শামিল’ হিসেবে গণ্য করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি সিন্ধু নদ ব্যবস্থাকে অঞ্চলের ‘জীবনরেখা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, গত বছরের সংঘাতের পর ভারতের একতরফাভাবে সিন্ধু পানি চুক্তি (আইডব্লিউটি) স্থগিত করার কোনো আইনি ভিত্তি নেই এবং জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ ও পার্মানেন্ট কোর্ট অব আরবিট্রেশন ইতোমধ্যে নয়াদিল্লির সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। পাহালগামে হামলার জেরে গত বছর ভারতের সঙ্গে সৃষ্ট সংঘাতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনীর দাঁতভাঙা জবাবের প্রশংসা করার পাশাপাশি ২০২৫ সালের মে মাসে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূরদর্শী ভূমিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি; তবে দক্ষিণ এশিয়ায় স্থায়ী শান্তির জন্য অবিলম্বে জাতিসংঘের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গণভোটের মাধ্যমে কাশ্মীর সংকটের ন্যায্য সমাধানের জোর দাবি তোলেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা প্রসঙ্গে শাহবাজ শরিফ বিশ্ব অর্থনীতির ধমনী হিসেবে পরিচিত হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব প্রণালি উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানান এবং গত জুন মাসে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের অক্লান্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষরের বিষয়টি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন। এছাড়া সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রিয়াদের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং জানান যে, পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যকার ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং পুরো অঞ্চলের শান্তি, প্রতিরক্ষা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার একটি সম্মিলিত অঙ্গীকার।

