বিজিবির কঠোর বাধায় সুর নরম বিএসএফের: শূন্যরেখায় আটকে থাকা ২১ জনকে ফেরত নিল ভারত, রৌমারীতে নতুন পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত

বিজিবির কঠোর বাধায় সুর নরম বিএসএফের: শূন্যরেখায় আটকে থাকা ২১ জনকে ফেরত নিল ভারত, রৌমারীতে নতুন পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত

ওয়ান নিউজ ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অভূতপূর্ব প্রতিরোধ ও অনড় অবস্থানের মুখে অবশেষে সুর নরম করতে বাধ্য হয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় সীমান্তের নো-ম্যান্সল্যান্ডে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর নারী, শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ মোট ২১ জন পুশ-ইনের শিকার ব্যক্তিকে রোববার (৮ জুন) গভীর রাতে নিজেদের ভূখণ্ডে ফেরত নিয়ে গেছে বিএসএফ। তবে উত্তরবঙ্গের এই দুই সীমান্তে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও একই সময়ে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত দিয়ে আবারও নতুন করে পুশ-ইনের অপচেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ভারতের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় বিজিবি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে ৩ জন পুরুষ, ৪ জন নারী ও ৪ জন শিশুসহ মোট ১১ জন ব্যক্তি প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর অবস্থায় আটকে ছিলেন। গত শুক্রবার রাতে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবির টহল দল তাত্ক্ষণিক বাধা দেয়, যার ফলে তারা নো-ম্যান্সল্যান্ডে অবস্থান নিতে বাধ্য হন। দিনাজপুর ৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, দীর্ঘ সময় পর রোববার গভীর রাতে বিএসএফ ওই ১১ জনকে ফেরত নিয়ে যায়।

অনুরূপভাবে, পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইনের শিকার আরও ১০ জন ব্যক্তিকে দীর্ঘ ৭০ ঘণ্টা পর ফিরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ। গত শুক্রবার ভোরে তাদের সীমান্ত পার করার চেষ্টা করা হলে বিজিবি কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এর পর থেকে টানা কয়েক দফা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও তারা শূন্যরেখায় পড়েছিলেন। নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, রোববার মধ্যরাতে বিএসএফ সদস্যরা যাওয়ার আগে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের নিয়ে যায় এবং বর্তমানে ওই সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে, রৌমারী উপজেলার বকবান্দা ও ঝাউবাড়ী সীমান্তে গত রোববার সন্ধ্যায় আবারও কিছু মানুষকে পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। তবে খবর পেয়েই বিজিবির কড়া টহল দল ও স্থানীয় বাসিন্দারা সীমান্তে ঐক্যবদ্ধ সতর্ক অবস্থান নিয়ে সেই প্রচেষ্টা পুরোপুরি নস্যাৎ করে দেন। স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই এই সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে দফায় দফায় পুশ-ইনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিজিবির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ নজরদারি ও টহল জোরদার রাখার পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে প্রতিটি ইঞ্চি পাহারা দেওয়া হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *