চট্টগ্রামে দিন দিন তীব্র হচ্ছে বিদ্যুৎ সংকট। জ্বালানি ঘাটতির কারণে অন্তত ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় নগরের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ছে লোডশেডিং। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। ভ্যাপসা গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, পাশাপাশি পানির সরবরাহেও দেখা দিয়েছে সমস্যা।
পিডিবি ও চট্টগ্রাম সিস্টেম কন্ট্রোল (স্কাডা) সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ১,২১১ মেগাওয়াটের বেশি। এ সময় উৎপাদন ছিল প্রায় ১,৩৫৩ মেগাওয়াট। তবে এর মধ্যে প্রায় ১৪২ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হওয়ায় স্থানীয়ভাবে ঘাটতি তৈরি হয় এবং প্রায় ৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়।
বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে রাউজান ১ ও ২, জুলধা ২ ও ৩ এবং কক্সবাজারের উইন্ড প্ল্যান্ট উল্লেখযোগ্য। এছাড়া মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সন্ধ্যার পর উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে মাত্র দুটি সচল রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ অনেকটাই নির্ভর করছে বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট, শিকলবাহা কেন্দ্র এবং মিরসরাইয়ের একটি কেন্দ্রের ওপর।
উৎপাদন কমে যাওয়ায় নগরের বিভিন্ন এলাকায় দিনে একাধিকবার লোডশেডিং হচ্ছে। কোথাও কোথাও প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। আবার বিদ্যুৎ চলে গেলে তা ফিরে আসতে সময় লাগছে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। এর প্রভাব পড়েছে ওয়াসার পানি সরবরাহেও, ফলে অনেক এলাকায় পানি সংকট দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া, জ্বালানি তেলের ঘাটতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট—এই তিনটি কারণেই একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখতে হয়েছে, যার ফলে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়বে। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।

