ওয়ান নিউজ ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গে বসবাসরত অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের শনাক্ত, আটক এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের মাধ্যমে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বুধবার (২০ মে) রাজ্যের প্রশাসনিক সদরদপ্তর নবান্নে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তর উপলক্ষে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনার আলোকে অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও বিতাড়নের কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গে এখন থেকে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতি অনুসরণ করা হবে।
রাজ্য প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, পুলিশের মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করবে।
তবে বাংলাদেশ বরাবরই বলে আসছে, যথাযথ নথিপত্র ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রমাণিত নাগরিকদেরই কেবল গ্রহণ করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, যারা ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে প্রবেশ করেছেন এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) অনুযায়ী আবেদন করার যোগ্য, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা অমুসলিম অভিবাসীরা নাগরিকত্বের সুযোগ পাবেন।
সম্প্রতি আসামে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আসামের অনুসৃত কঠোর নীতিই পশ্চিমবঙ্গেও কার্যকর করা হবে।
এদিকে রাজ্য সরকার জানিয়েছে, বাংলাদেশ সীমান্তের আরও ২৭ কিলোমিটার এলাকায় নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত চৌকি ও অন্যান্য অবকাঠামো তৈরির কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুপ্রবেশের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে এবং বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে অবৈধ অভিবাসীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
তবে বিরোধী মহলের অভিযোগ, বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

