ওয়ান নিউজ ডেস্ক: পূর্ববর্তী সরকারের আমলের অপরিকল্পিত ও জনকল্যাণহীন কিছু জাঁকজমকপূর্ণ ‘ভ্যানিটি প্রজেক্ট’ বা লোকদেখানো প্রকল্পের জন্য নেওয়া বৈদেশিক ঋণ বর্তমান সময়ে পুরো জাতির ওপর বিশাল বোঝা হিসেবে চেপে বসেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন এবং দেশের এই শোচনীয় অর্থনৈতিক অবস্থাকে কোনো অজুহাত হিসেবে দাঁড় না করিয়ে দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছার মাধ্যমে চলমান সংকট সমাধানের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার সময় একটি ভঙ্গুর ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া অর্থনীতি পেয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত সময়ে ব্যাপক দুর্নীতি, লুটপাট ও ভুল নীতিমালার পাশাপাশি এমন সব অহেতুক দেশি-বিদেশি ঋণনির্ভর প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল যা থেকে কোনো রাজস্ব বা আয় আসে না; ফলে বর্তমান সরকারকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে সেই ধার শোধ করতে হচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় দেশবাসীকে এই ধকল সইতে হবে। তিনি আরও জানান যে, অতীতে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, পুঁজিবাজারে সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বেহাল দশা তৈরি হয়েছিল এবং দেশীয় মুদ্রার মান প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছিল। এই বিদ্যমান ও গুরুতর সংকটগুলোকে অস্বীকার না করে জনগণকে সাথে নিয়ে কার্যকর কৌশলের মাধ্যমে মোকাবিলা করার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর দর্শনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন, যা হলো—দেশের স্বার্থে সবার আগে বাংলাদেশ এবং জনগণের স্বার্থে সবার জন্য বাংলাদেশ; আর এই দর্শনের আলোকেই একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এবারের বাজেট তৈরি করা হয়েছে। পরিশেষে তিনি স্পষ্ট করেন যে, উন্নয়ন মানে কেবল জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়ানো নয়, বরং সাধারণ মানুষের ঘরে স্বস্তি ফেরা, যুবসমাজের কর্মসংস্থান তৈরি এবং কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পাওয়ার মাঝেই প্রকৃত উন্নয়ন নিহিত, যার মাধ্যমে উদ্যোক্তারা কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন এবং আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

